ঢাকা অফিস : প্রত্যাশা মতো দাম না পাওয়ায় রাজধানীর গাবতলী হাট থেকে গরু ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী। এবার আগেই গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ায় শেষ সময়ে দাম পাচ্ছেন না তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গড়ে গরু প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা লোকসানে বিক্রি করেছেন তারা।

মঙ্গলবার (২০ জুলাই) গাবতলীর পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ও মাঝারি গরুর দাম কমে গেছে। আর বড় গরুর দাম অর্ধেকও বলছেন না ক্রেতারা। অনেক ব্যবসায়ী গরু লোকসানে বিক্রি না করে ট্রাক ভর্তি করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।

মুশফিক নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহ থেকে আসছি। গরু এনেছি ১৭টা। মাত্র সাতটা বিক্রি করতে পেরেছি। কোনোটায় ১৫ হাজার তো কোনোটায় ১৭ হাজার টাকা লসে বিক্রি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকে তো কাস্টমারই নাই। আর দাম বলে না কেউ। আড়াই লাখ টাকার গরু দাম বলে দুই লাখ টাকা। এমন অবস্থা আগে জানলে ঢাকায় আসতাম না।’

এদিকে, গরুর দাম কমে যাওয়ায় ক্রেতারা বেশ খুশি। তিন ঘণ্টা ঘুরে গাবতলী পশুর হাটে প্রায় ৩ মণ মাংস হবে এমন গরু ৬০ হাজার টাকায় কিনে বাড়ি ফিরছেন আগারগাঁওয়ের বাসিন্দা নাসিমুল। তিনি বলেন, ‘গত বার শেষ সময়ে গরু পাওয়া যায়নি। তবে এবারে আর এমন হয়নি। কয়েকদিন ব্যবসায়ীরা গরু ধরে রেখেছিল। আজকে ছাড়তে শুরু করেছে।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, হাটে এখনো পর্যাপ্ত গরু আছে। এছাড়া আগেভাগে সবাই গরু কিনে ফেলায় শেষ মুহূর্তে মিলছে না পশুর দাম। রোববার যে গরু ১ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে আজ ক্রেতা সেই গরু ৭০ হাজার টাকাও বলছেন না।

নাটোরের সানোয়ার নামে এক ব্যবসায়ী রাজা ও বাদশা নামে বড় দুইটি গরু গাবতলী হাটে এনেছেন। হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তিনি।

সানোয়ার বলেন, ‘১৫ মনের বেশি মাংস হবে আমার রাজা ও বাদশার। প্রতিটির দাম চেয়েছিলাম সাড়ে তিন লাখ টাকা। কেউ দুই লাখের ওপরে বলে না। গরুগুলোকে তিন বছর ধরে পালছি। প্রতিদিন এদের পেছনে ৩০০ টাকা করে খরচ আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিন লাখ টাকা দাম হলে বিক্রি করব না হলে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

error: Content is protected !!