নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশিষ্ট লোকসঙ্গীত শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়ার পাশে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়। বাড়িয়ে দিলেন সহযোগিতার হাত। লালন গীতি, লোক সঙ্গীত এবং বাউল গানের এই গুণী শিল্পী দীর্ঘদিন যাবৎ শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছেন। আর্থিক সংকট নিয়ে নিজ বাড়িতে চরম দুরাবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। কুষ্টিয়া শহরের জেল খানা মোড়ে অবস্থিত এরশাদ নগর সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পে মেয়েকে নিয়ে বসবাস করেন কাঙ্গালিনী সুফিয়া। কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক জানান, কিছুদিন পূর্বে কাঙ্গালিনী সুফিয়ার দুরাবস্থা নিয়ে আরেক বাউল শিল্পী নেত্রকোনার কুদ্দুস বয়াতী সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা ভিডিও আপলোড করেন। ভিডিওটি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়ের নজরে আসে। গুণী এই শিল্পীর দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তিনি (তাঁকে) কাঙ্গালিনী সুফিয়াকে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করার ইচ্ছা পোষণ করেন। যোগাযোগ করেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সাথে। শনিবার (পহেলা মে) বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে কুষ্টিয়াস্থ এই শিল্পীর বাড়িতে যান। এ সময় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়’র ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রদান করা সহযোগিতা পৌছে দেন অসুস্থ শিল্পী কাঙ্গালিনী সুফিয়ার হাতে। নগদ ১০ হাজার টাকা ছাড়াও সহায়তার মধ্যে ছিল ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চাউল, ২০ কেজি আটা, ডাউল, সেমাই, চিনি, সোয়াবিন তেল, নারিকেল তেল, সাবান, আলু, পেয়াজ, লবন, হুইল পাউডার, পাউডার দুধসহ অন্যান্য সামগ্রী। এ সময় কুষ্টিয়া পৌর ছাত্রলীগের আহবায়ক হাসিব কোরাইশী, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম লিমনসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনিক জানান, হঠাৎ সহযোগিতা পেয়ে অসুস্থ এই শিল্পী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খানসহ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের প্রতি। এ সময় হোয়াটস আ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও কল দিয়ে জয়’র সাথে কথা বলিয়ে দেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক। কাঙ্গালিনী সুফিয়ার প্রকৃত নাম টুনি হালদার। তবে তিনি কাঙ্গালিনী সুফিয়া নামেই বেশি পরিচিত। ১৯৬১ সালে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার রামদিয়া গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। লালন গীতি, লোক সঙ্গীত এবং বাউল গানের জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেছেন। প্রায় পাঁচ শতাধিকেরও বেশি গান গেয়েছেন। কোনবা পথে নিতাইগঞ্জে যাই, পরাণের বান্ধব রে বুড়ি হইলাম তোর কারণে, নারীর কাছে কেউ যায় না, আমার ভাঁটি গাঙের নাইয়া প্রভৃতি গানের জন্য তিনি বিখ্যাত। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের মঞ্চে গান পরিবেশন করেছেন। ১০ টি আন্তর্জাতিকসহ ৩০ টি জাতীয় পুরস্কার রয়েছে গুণী এই শিল্পীর ঝুঁলিতে।

error: Content is protected !!