কুষ্টিয়ায় জাতীয় পরিচয় পত্র(ঘওউ) জালিয়াতির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের এক উপ সচিবসহ ৫জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নির্বাচন কমিশন কুষ্টিয়ার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। গত ৪মার্চ কুমারখালী ও কুষ্টিয়া মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলায় তাদের এজাহারভুক্ত আসামী দেখানো হয়েছে।

মামলাটি রেকর্ডভুক্ত হওয়ার পর থেকেই সন্দিগ্ধ অভিযুক্তরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন এবং সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তর হতে প্রেরিত পত্রের মাধ্যমে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া সিনিয়র নির্বাচন অফিসার আনিসুর রহমান।

যদিও সরকারী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে থানায় রেকর্ডভুক্ত এই মামলা দুটি বিধি সম্মত না হওয়ায় এখনও তদন্ত শুরু হয়নি।

কুষ্টিয়া নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা বাদি হয়ে নিজ সহকর্মীদের বিরুদ্ধে করা এই মামলা দুটিতে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন- সাবেক সিনিয়র নির্বাচন অফিসার এবং বর্তমানে নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরে কর্মরত উপ-সচিব নওয়াবুল ইসলাম, সাবেক কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বর্তমানে অতি: আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে ফরিদপুরে কর্মরত জিয়াউর রহমান, সাবেক কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার বর্তমানে মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অমিত কুমার দাস, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর জিএম সাদিক এবং সাবেক কুমারখালী উপজেলা নির্বাচন অফিসার বর্তমানে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার ছামিউল আলম।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৯ মে হতে ২০২০ সালের ১৫মার্চ পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ডাটা বেজের মাধ্যমে প্রতারণার উদ্দেশ্যে অসৎ উপায়ে সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে দ্বৈত ভোটার তালিকা সৃষ্টি করত: জাতীয় পরিচয় পত্র (ঘওউ) জাল করার অপরাধ সংঘটনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ভোটার তালিকা আইন তৎসহ ২০১৮সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দ:বি: ২৪/৩৫, ১৮৬০সালের সিআরপি ৪২০/৪৬৮/১০৯, ২০১০ সালের জাতীয় পরিচয় পত্র নিবন্ধন আইন লংঘন জনিত অপরাধ সংঘটিত করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মূল সার্ভার বেজ থেকে ৬টি ঘওউ ও ৬টি ভোটার নিবন্ধন এবং কুমারখালী উপজেলার ৫টি ঘওউ সহ ৩টি ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেন অভিযুক্তরা। বিভাগীয় পর্যায়ে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতম কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে এই মামলা দুটি দায়ের করেছেন কুষ্টিয়া নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন অফিসের কর্মকর্তা কর্তৃক কুমারখালী ও কুষ্টিয়া মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলা দুটিকে দুর্নীতির অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ায় এই মামলা সরসরি দুর্ণীতি দমন কমিশনের পক্ষ হতে মামলা করার বিধান থাকলেও মামলা রেকর্ড হয়েছে থানায়।
দুর্ণীতি দমন কমিশন দুদকের কৌশুলী এ্যাড. আল মুজাহিদ মিঠু বলেন, বিধি মতে সরকারী অফিসে সরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারী কর্তৃক সংঘটিত এজাতীয় অপরাধ সরাসারি আমলে নিয়ে মামলা দায়েরসহ তদন্ত পূর্বক আদালতে অভিযোগ পত্র/প্রতিবেদন দাখিল করবেন দুদক। কিন্তু এই মামলায় পুলিশ কর্তৃক তদন্তের বিধান না থাকায় এখনও পর্যন্ত ফাইল জব্দ হয়ে আছে মামলাটি।

তিনি এসংক্রান্ত আইনের সংজ্ঞা দিয়ে বলেন,‘থানায় দুর্নীতির অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের- “এই বিধিমালায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন আইনের তফসিলভুক্ত কোন অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে কোন ব্যক্তি থানায় অভিযোগ দায়ের করিতে পারিবে এবং সংশ্লিষ্ট থানা উক্ত অভিযোগটি প্রাপ্তির পর উহা পুলিশ এ্যক্ট ১৮৬১র বিধান মতে, সাধারণ ডায়েরীভুক্ত করিয়া আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনধিক দুই কার্যদিবসের মধ্যে উহা কমিশন কমিশন বহির্ভুত কর্মকর্তা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কমিশনের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে এবং কমিশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কমিশন বরাবর প্রেরণ করিবে”।

এবিষয়টি নিয়ে মামলার বাদি আনিসুর রহমানের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমি তো আসলে আইনজ্ঞ নই; আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের লিখিত নির্দেশনা পেয়ে কুষ্টিয়া জজ কোর্টের সরকারী কৌশুলীকে মামলা দায়েরের আইনগত সাহায্য চেয়ে পত্র প্রেরণ করি। উনাদের পরামর্শেই মামলা দুটি দুই থানায় গিয়ে দায়ের করি। পুলিশ এমামলা তদন্ত করতে পারবে না বা মামলাটি এখও তদন্তই শুরু হয়নি সেটা আমার জানা নাই।
কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শওকত কবীর দেশ রূপান্তর’কে বলেন, এনআইডি জালিয়াতির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের করা মামলাটি পুলিশ তদন্ত করতে পারবেন না এটা আমার জানা ছিলো না। তবে এখন যেহেতু জেনেছি বিষয়টি আমার উর্দ্ধতন কর্মকর্তা গণের সাথে আলাপ করে পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

error: Content is protected !!