নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা মহামারী এই মুহূর্তে বিশ্ববাসীর কাছে এক মহা আতঙ্কের নাম। গতবছর মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই মহামারিতে এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়েক লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছে। বাংলাদেশের সরকারি হিসাব মতে এ পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজারের মতো মানুষ এই ভাইরাসে মৃত্যু বরণ করেছে। এছাড়া প্রতিনিয়তই শনাক্তের হার বাড়ছে। যার কারণে অনেকে মনে করছেন এখন বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও কুষ্টিয়ার বিনোদনস্পটগুলোকে দেখা মিলছে ভিন্ন চিত্রের। দূরদূরান্ত থেকে লালন রবীন্দ্রনাথের এই জেলায় প্রতিদিনই দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছে। করণা মহামারীর শুরুর পর কুষ্টিয়ার অন্যতম দর্শনীয় স্থান বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজার বন্ধ রেখেছে। কর্তৃপক্ষ বন্ধ রাখলেও দর্শনার্থীর এখানে আসা কোনমতেই থেমে নেই।সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সন্ধ্যার পরে লালন শাহের মাজার এর সামনে গেলে দেখা যায় বাইরের বেশ কয়েকটি জেলা থেকে দূরপাল্লার বাসে করে দর্শনার্থীরা এখানে হাজির হয়েছেন। আগত দর্শনার্থীদের অধিকাংশের মুখে নেই মাক্স। যেখানে কুষ্টিয়া জেলার পুলিশ সুপার মহোদয় নিজেই প্রত্যেকদিন জেলার বিভিন্ন স্থানে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাক্স বিতরণ কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। সেখানে ঐতিহাসিক ও বিনোদন স্পটগুলোতে মানুষের মুখে মাক্স না থাকাটা আসলেই দুঃখজনক।

এছাড়াও কুষ্টিয়ার অন্যান্য বিনোদন স্পট- রোজ হলিডে পার্ক এন্ড রিসোর্ট, টুরিস্ট পার্ক, গড়াই নদীর বাঁধ, কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী শিশু পার্ক, পুরাতন শিশু পার্ক সব জায়গাতেই অধিক লোক সমাগম দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে মাক্স ব্যবহারকারীর একজনেরও দেখা মেলেনি। তাছাড়া বিনোদন স্পটগুলোর কর্তৃপক্ষরা স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কোনরকম পদক্ষেপ গ্রহন করছে না।কুষ্টিয়ার সচেতন মহলের দাবি, এখনই যদি স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করা হয় তাহলে সামনে করোনা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। তাছাড়া সকল ক্ষেত্রে সকল জায়গায় মানুষের মুখে মাক্স ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

জেলা প্রশাসন কুষ্টিয়ার তথ্যমতে, কুষ্টিয়ায় প্রায় প্রতিদিনই মানুষজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। মাঝে মাঝে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন অনেকেই।

error: Content is protected !!