নিজস্ব প্রতিবেদক : কুষ্টিয়া বটতৈল ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া এলাকার স্কুল ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার শরিফা গত ২ এপ্রিল বিষপানে আত্মহত্যা করে।

জানা যায়, শরিফা পার্শ্ববর্তী (চারমাইল নতুন পাড়া) এলাকার হাবিব প্রধানের ছেলে বাদল (২০) এর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এবিষয় জানাজানি হলে শরিফার দাদা ও চাচারা তাকে বকাবকি করে। এরপর অভিমানে আত্মহত্যা পথ বেছে নেয় শরিফা। সুমাইয়া আক্তার শরিফা শক্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
শরিফার দাদা গোলাম মাওলা জানান, আমার ছেলে (শরিফার বাবা) দ্বিতীয় বিবাহ করে ঢাকাতে থাকে। শরিফার মা বিদেশ থাকে। শরিফা ও তার ছোট ভাই আমাদের কাছে থাকে। গত কিছুদিন আগে আমরা জানতে পারি যে শরিফার সাথে বাদলের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এবিষয়ে বাদলের বাবা জানতে পেরে আমার বাড়িতে এসে বকাবকি করে। এই অভিমানে আমার নাতি আত্মহত্যা করেছে। আমি এবিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

শরিফার বাড়ির পাশের এক মেয়ে জানান, শরিফার সাথে বাদলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বাদল অন্য এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক করে দিতে বলেন। বাদল বলে তুমি যদি ওই মেয়ের সাথে সম্পর্ক করে দিতে পারো তবে আমি মনে করবো তুমি আমাকে সত্যিকারের ভালোবাসো। সেই মেয়ের কাছে গিয়ে শরিফা ফোন নাম্বার দেয় কিন্তু ওই মেয়ে বাদলের সাথে প্রেম করতে রাজি হননি।

বাদলের মা বলেন, আমার ছেলের সাথে শরিফার কোন সম্পর্ক ছিল কি না তা আমি জানিনা। শরিফা মারা যাওয়ার পর হঠাৎ শুনতে পাই আমাদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া মডেল থানায় শরিফার দাদা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শরিফা স্কুলে যাওয়া আসার সময় বাদলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ও বিয়ের প্রলোভন দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে। এভাবে কিছুদিন চলার পর বাদল আমার নাতনি কে বিবাহ করতে অস্বীকার করে। এই বিষয়টি শরিফা বাড়িতে এসে বললেন, গোলাম মাওলা, আলী মোহাম্মদ ও শাহিন বাদলের বাড়িতে গিয়ে জানালে তারা আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মানহানিকর কথাবার্তা সহ বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ এপ্রিল শরিফা বিষপানে আত্মহত্যা করে।

অভিযোগের বিষয়ে নিয়ে গোলাম মওলার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগে কি লিখেছি তা বুঝে উঠতে পারেনি।

error: Content is protected !!