খোকসা প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার খোকসায় সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে গৃহবধূকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২ মার্চ) রাতে উপজেলার গোপগ্রাম ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর নাম সীমা (২৮)। তার দুই বছর বয়সী একটি শিশু কন্যাসন্তান রয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আতিয়ার রহমান। তিনি পাশের গ্রামের আফসার বিশ্বাসের ছেলে ও বটকলের নামের একটি এনজিওর কর্মী।

গৃহবধূর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সন্তোষপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে সীমার সঙ্গে চার বছর আগে আতিয়ার রহমানের বিয়ে হয়। সম্প্রতি আতিয়ার গোপনে আরেকটি বিয়ে করার পর থেকে সীমার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। গত বছরের জুন মাসের দিকে গৃহবধূ সীমাকে শিশু সন্তানসহ বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এক পর্যায়ে ডিসেম্বর মাসের দিকে গৃহবধূকে তালাক দেন স্বামী। বিষয়টি নিয়ে গৃহবধূ বাদী হয়ে আদালত মামলা করেন। মামলার পর থেকে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে আতিয়ারের পরিবার।

এ ঘটনার সূত্র ধরে মঙ্গলবার রাতে গৃহবধূ সীমাকে তার বাবার বাড়ির পাশের রাস্তা থেকে অপহরণ করে একটি মাঠে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। কাপড় দিয়ে মুখবাঁধা দুর্বৃত্তরা প্রথমে গৃহবধূর কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেন। এসময় গৃহবধূর চিৎকারে মসজিদ ফেরত মুসল্লিরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। গুরুতর আহত গৃহবধূকে রাতেই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গুরুতর আহত গৃহবধূ সীমার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তিনিও উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু কিছু বলতে পারছিলেন না। গৃহবধূর দুই চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল।

খুব মৃদুস্বরে গৃহবধূ সীমা জানান, সাবেক স্বামী তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

গৃহবধূর বাবা লুৎফর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে সীমা তার শিশুর খাবার কিনতে বাড়ির পাশের দোকানে যাচ্ছিলেন। ফাঁকা রাস্তা থেকে সাবেক জামাই আতিয়ার, তার ভাই সোহেল ও আল আমিন সীমাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মেয়ের চিৎকারে তারা ব্যর্থ হয়ে গলাই ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করেন। ওই সময় মাগরিবের নামাজ শেষে মুসল্লিরা ফিরছিলেন। তারাই অপহরণকারীদের কবল থেকে সীমাকে উদ্ধার করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. প্রতীক সাহা জানান, গৃহবধূর গলায় লালচে দাগ ও ফোলার চিহ্ন পাওয়া গেছে। শরীরে কেরোসিন তেলের গন্ধও ছিল। তার শ্বাস ও বাকযন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়াতে রেফার করা হয়েছে।

error: Content is protected !!