মিরপুর প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার মিরপুরে গরু চুরির হিড়িক পড়েছে। কখন গোয়াল থেকে গরু চুরি হয় এই আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এলাকার মানুষ। প্রতিরাতেই কোনো না কোনো এলাকায় হানা দিচ্ছে সংঘবদ্ধ চোরের দল। গত কয়েক মাসে এ উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতেও উপজেলার ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রাম থেকে ৫টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। মুসা প্রামাণিক নামে এক গ্রাম পুলিশের বাড়ী থেকে ৫টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে।

এছাড়াও গত সপ্তাহে উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের বলিদাপাড়া মাঠপাড়া থেকে লাল প্রামাণিকের বাড়ীর গোয়াল ঘর থেকে ৩টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোরেরা। কয়েক সপ্তাহ আগে চা দোকানী মাসুদের তিনটি গরু চুরি হয়ে যায়। পুলিশের নজরদারির অভাব আর রাত্রিকালীন টহল না থাকার কারণে চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না বলে অনেকের অভিযোগ। সংঘবদ্ধ চোরের দল নানা কৌশলে একের পর এক চুরি করে যাচ্ছে।

ইটভাটা ব্যবসায়ী শাহীন আলী বলেন, প্রায় প্রতি রাতেই গরুর গোয়াল ঘর থেকে চোরের দল হানা দিয়ে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে দরিদ্র কৃষকের সহায় সম্বল। যাদের গরু আছে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ জমানো সঞ্চয়, ধার-দেনা কিংবা ঋণ নিয়ে গরু কিনে তা লালন পালন করে থাকেন। সংসারে একটু স্বচ্ছলতা আনতে তারা অনেক কষ্ট করে থাকেন। গরুর দুধ বিক্রি করে পরিবারের খরচের টাকা যোগান। কৃষি নির্ভর পরিবারগুলো গরু দিয়ে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আর গরু চোরেরা যখন এসব মূল্যবান গরু চুরি করে নিয়ে যায় তখন হতদরিদ্র এসব পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়ে। রাতের বেলায় যেসব সড়কে আলো থাকে না কিংবা অনেকটা নির্জন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশি উন্নত বিশেষ করে সে সব এলাকায় চুরির ঘটনা বেশি ঘটছে।

ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ব্যক্তি জানান, গরুর ঘর থেকে রশি কেটে অথবা খুলে গরু গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তবে এসব ঘটনায় গরু চোরদের গ্রেফতার করতে না পারায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। গরু চুরি বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা জানান গরু চুরি রোধে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

 

error: Content is protected !!