নিজস্ব প্রতিবেদক : শিল্পীদের পাশে কালের কন্ঠ। এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কালের কণ্ঠ শুভ সংঘ কুষ্টিয়ার উদ্যোগে দুই শিল্পীকে গীতবিতান ও স্বরবিতান প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে কালের কন্ঠ শুভ সংঘ কুষ্টিয়ার অস্থায়ী কার্যালয়ে শিল্পী সরকার ও শিলাইদহ কুঠিবাড়ীর বকুলতলার শিল্পী ওলিদুল ইসলামের হাতে এসব বই তুলে দেওয়া হয়।

কালের কন্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক তারিকুল হক তারিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. সরওয়ার মুর্শেদ তার বক্তব্যে বলেন, জীবন উন্মোচিত হতে চায় বিকশিত হতে চায়। জীবনকে অন্যদের থেকে আলাদাভাবে ছড়াতে চাও বিকাশ ঘটাতে চাও এই কালের কন্ঠ শুভ সংঘের মাধ্যমে সেই সুযোগ আছে।
একটা গাছ, নদী বা পাহাড়কে শিল্প বলে না। আবার নদী, পাহাড় কিংবা গাছকে নিয়ে ছবি আঁকলে সেটি শিল্প হয়।
তাই প্রাকৃতিক হলো সেগুলো। আর
মনের মাধুরি মিশিয়ে যা সৃষ্টি হয় তাই হলো শিল্প। সৃষ্টি ধর্মী এবং সৃজনশীলতারই নামই শিল্প।

সঙ্গীত কিন্তু গুরুমুখী বিদ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পসিদ্ধী লাভ করতে হলে সাধনার কোন বিকল্প নেই।
সেই সাধনার পথ যদি সুন্দর এবং সত্যিকার অর্থে ভালো করতে হয় তাহলে সাধনা অবশ্যই করতে হবে। যারা শিল্প সাধনা করবে তারা যেন সত্যিকারের সাধনা করবে। কোন ফাঁকি থাকবে না। সুরের লয় কি হবে এজন্য ভালো ওস্তাদ দরকার হবে। বইতে গান লেখা থাকলেও সুর তাল লয় নিয়ে একজন শিল্পীকে অনেকদূর এগিয়ে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, যারা রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ী তে আসে। তাদের মধ্যে অনেক বোদ্ধারা আসে। সেখানে যদি রবীন্দ্র সঙ্গীত ভুল গাওয়া হয় তাহলে তারা আহত হবে ব্যাথিত হবে। তাই শিল্পী ওলিদুলকে আরও ভালো গাইতেও পরামর্শ দেন তিনি।
কালের কন্ঠ সম্পাদককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি কুষ্টিয়াকে আলোড়িত করে গেছেন। এবং তিনিও মুগ্ধ হয়ে গেছেন। তাই তার ভালোলাগা ভালোবাসায় তাড়িত হয়ে এই বইগুলো উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে। আজকের এই অনুষ্ঠানে যে দুজন বই পেলে কিন্তু এখানেই দায়িত্ব শেষ হয়ে গেলো না।

অনুষ্ঠানে আরেক অতিথি জাতীয় রবীন্দ্র সম্মিলন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী অশোক সাহা বলেন, ভালোলাগার একটা অনুষ্ঠান, আজকের এই বই বিতরণ। তোমাদের আগ্রহ যে কবিগুরুর আড়াই হাজার লেখা গানের একটি খন্ড এবং বিশ্বভারতী থেকে মুদ্রিত স্বরলিপি লেখা আছে।
তিনি বলেন, বইয়ের বিষয়টি মুখ্য নয়৷ এই বই থেকে সঠিক পদ্ধতিতে গান গাওয়ার যে প্রয়াস এটি সত্যি আমাকে মুগ্ধ করেছে।
এই বই থেকে কি কি অর্জন করেছো, এবং পদ্ধতিগত ভাবে কি অর্জন করেছো তা আমি পরখ করবো। যদি ভালো কিছু করতে পারো তাহলে আজকের এই বই বিতরণ স্বার্থক হবে।
রবীন্দ্রনাথের গান যেখন তোমরা সঠিকভাবে করতে পারো তবেই মঙ্গল।
ভুল কোন গান পরিবেশন মোটেও ঠিক নয়। রবীন্দ্রনাথের গানের চর্চায় থাকার আহবান জানান তিনি।
কালের কণ্ঠ শুভ সংঘ কুষ্টিয়ার প্রচার সম্পাদক এসএম জামাল, সদস্য শিল্পী সরকার, সুমাইয়া, মাহবুবুল ইসলাম ছোটন, সুমাইয়া খাতুন, কাকলী খাতুন, পরমা সরকার উপস্থিত ছিলেন।

অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে শিল্পী সরকার বলেন, আমি যখন ছোটবেলায় ক্ষুধা লাগলে খাওয়ার থেকে গান শুনলে নাকি কান্না থামতো। রেডিওতে ঠাকুমা গান শোনাতেন। পরে আমার শিল্পী হয়ে ওঠা।
প্রিয় মানুষ ইমদাদুল হক মিলন স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন তিনি।

শিল্পী ওলিদুল ইসলাম বলেন, আমার যখন জন্ম তখন বাবার দৃষ্টি শক্তি চলে যায়। ছোটবেলা থেকে বাবার সাথে বকুলতলায় গান শুনতাম। এক সময় রবীন্দ্র এবং নজরুলের গান আমাকে টানতো। অনেক ভাবে লাগতো।
রবীন্দ্রনাথের গান আসলে ভুল করে গাওয়ার সুযোগ নেই।

error: Content is protected !!