নিজস্ব প্রতিনিধি : কাজ করে মজুরি না পাওয়া দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভুত ক্ষোভে অবশেষে আদালত অঙ্গনে ময়লা ছিটিয়ে আন্দোলনে নেমেছে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। বুধবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও চীফ জুডিসিয়াল আদালত ভবনে যাতায়াতের সংযোগ রাস্তায় এসব ময়লা ছিটিয়ে তাদের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি রাস্তার উপর রেখে মজুরির দাবিতে আন্দোলন করেন এসব পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।

তাদের মধ্যে বয়জ্যেষ্ঠ কর্মী মালতী রানী বাশফোড় অভিযোগ করেন, কুষ্টিয়া আদালত অঙ্গনের কাজের জন্য ৩টি পদ আছে, যারা কাজ করতেন তারা সবাই মারা গেছে, এখন সেখানে কোন নিয়োগ দিচ্ছেন না। আবার আমাদেরকে কাজে খাটিয়ে ঠিকমতো মজুরিটাও দিচ্ছে না। একদিনে কাজ করলে আমরা পায় ১শ ৭০টাকা। সেটাও যদি মাসের পর মাস বছরের পর বছর ধরে বাকি রেখে কাজ করতে হয় তাহলে আমরা আন্ডা-বাচ্চা নিয়ে কি খেয়ে বাঁচব?

সমির বাঁশফোড়ের অভিযোগ, দেখুন নিয়োগ থাক বা না থাক, এই ময়লা পরিষ্কারের কাজ তো আমরাই করি। অথচ, নিয়োগ দেয়ার সময় মোটা টাকার ঘুষ নিয়ে মুসলমানদের নিয়োগ দিচ্ছে। যারা টাকা দিয়ে নিয়োগ নিচ্ছে তারা কিন্তু কাজ করে না; কাজ করতে শেষে পর্যন্ত আমাদেরকেই ভাড়া করে কাজ করিয়ে নেয়।

দীর্ঘ ১৮মাস কাজ করেছেন সবিতা রানী তার অভিযোগ, কোর্টে জজ সাহেবের কাজ, তার বাড়ীর পরিষ্কারের কাজ সবই করতে হয়। কখনও ২ বা ৬ মাস বা ১বছর পর আমাদের টাকা দেয়। এর মাঝে দিয়ে ফাক-ফোকে পাবলিকের কিছু ছুটা ছাটা কাজ করে যা পায় তাই দিয়ে কোন রকমে বেঁচে থাকি। দোকান থেকে বাকিতে চাল ডাল নিয়ে শোধ করি কোর্টের টাকা পেলে। কিন্তু এতোদিন ধরে টাকা না পেয়ে দোকানদারও আর বাকি দিচ্ছে না।

তবে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বকেয়া মজুরির দাবির সত্যতা আছে এমন কথা স্বীকার করলেও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি নন কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জোয়াদ্দার। তিনি জানান, এসব ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের বিষয়টি নাজির সাহেব দেখেন; উনি ভালো বলতে পারবেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাজির আলাউদ্দিন বলেন, সুইপারদের কাজের বিল পরিশোধে আমরা মন্ত্রনালয়ে চাহিদা পত্র পাঠায়। সেখান থেকে পাশ হয়ে আসলেই ওদের টাকা পরিশোধ করে দিই। ইতোমধ্যে এদের মজুরি বাবদ সমুদয় টাকা পরিশোধের জন্য চাহিদা পত্র পাঠিয়েছি। টাকা আসলেই পরিশোধ করা হবে।

তবে এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, কুষ্টিয়ার আদালত অঙ্গন এখন অনেকটা নিষ্প্রান হয়ে গেছে। ছোট খাটো নানা ঘটনার মধ্যে দিয়ে এখানকার শৃংখলা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও দৃশ্যত: শংকার মধ্যে ফেলেছে। এই ধরুন আজকে সারাটা দিন ধরে আদালত চলাকালে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তাদের দাবি আদায়ে যা করলো, এটা এক কথায় শৃংখলা ভঙ্গের সামিল। অথচ এর সমাধানে সংশ্লিষ্ট কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তির নূন্যতম কোন উদ্যোগ নিতে দেখছি না। ওরা ময়লা ফেলছে, চিৎকার চেচামেচি করছে অব্যহত ভাবে।

 

error: Content is protected !!