নিজস্ব প্রতিবেদক : রাস্তার জায়গা না দেওয়ায় কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক পরিবারের কাছে একটি গ্রামের প্রায় ছয়শো মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ ঘটনা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের। এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার এ নিয়ে বৈঠক করেও কোন সুরহা হয়নি। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে এলাকার মানুষ। তারা ব্যানার, প্লাকার্ড হাতে নিয়ে এলাকায় বিক্ষোভ করেছে।

এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই এলাকায় বসবাস করে আসছেন। এখানে একটি রাস্তা রয়েছে। সেই রাস্তার মুখে দুটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি বাড়ি রাস্তার জন্য দুই হাতের মত নিজেদের জায়গা ছেড়ে দিলেও বানিয়াপাড়া এলাকার মৃত আক্কাস মালিথার ছেলে ছলিম মালিথা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ । এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সেখানে বসবাসরত গ্রামের প্রায় ৬শ মানুষ। তারা কেউ অসুস্থ হলে বাড়ি থেকে বের হয়ে হাসপাতালে আসার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। কেউ মারা গেলে খাটিয়া পর্যন্ত বের করার জায়গা নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ নিয়ে একাধিক বার বৈঠক করলেও কোন সমাধান হয়নি। উল্টো বাড়ির মালিক মাস্তান দিয়ে গ্রামবাসীদের হুমকী-ধামকী দিচ্ছে। স্থানীয় ৭৬ বছর বয়সী জব্বার আলী বলেন, ৪০ বছরের বেশি সময় এখানে আমরা বসবাস করি। সকলেই রাস্তার জায়গা ছেড়েছে শুধু ছলিম মালিথা জায়গা ছাড়েনি।

এ বিষয়ে রশকার জানান, আমি যে দুই হাত জায়গা ছেড়ে দিয়েছি সেই জায়গার উপর দিয়ে এলাকার মানুষ চলাচল করছে। কিন্তু ছলিম মালিথা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়েনি। তিনি আমার সমপরিমাণ জমি ছাড়লে এলাকার মানুষ স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারতো। তিনি পাকা বিল্ডিং করার সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি তাকে রাস্তার জায়গা ছেড়ে দিয়ে বাড়ি করার কথা জানালেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। তিনি কারো কোন কথা শোনেনি।

এ ব্যাপারে ছলিম মালিথা জানান, তিনি এ ব্যাপারে কোর্টে মামলা করেছেন। এটা কোর্টেই মিমাংসা হবে। এদিকে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী সাড়ে ৩ কাঠা জমির উপর বাড়ি করতে হলে রাস্তার দিকে ৫ ফিট এবং অন্য পাশে ৩ ফিট জায়গা ছাড়ার নিয়ম রয়েছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কয়া ইউপির চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম স্বপন বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করছি একটা সমাধান হবে।

error: Content is protected !!