নিজস্ব প্রতিবেদক : কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করার পর এবার কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় লকডাউনের আদলে ৭ দিনের বিধি নিষেধ আরোপ করেছে জেলা প্রশাসন। কুষ্টিয়ায় চলমান করোনা পরিস্থিতির চরম অবণতি ঘটায় শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এ বিধি-নিষেধ আরোপ করেন। বিধি নিষেধ চলবে আগামী ২৫ জুন রাত ১২ টা পর্যন্ত। গণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় বিধি নিষেধ চলাকালীন সময়ে সকাল ৮ টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত কাঁচা বাজার খোলা থাকবে। তবে পৌর এলাকার সমস্ত দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শপিংমল রেস্টুরেন্ট সবকিছু বন্ধ থাকবে। কোন ধরনের যানবাহন চলাচল করবে না। এদিকে শনিবারের এই লকডাউন সফল করার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়ার সমস্ত প্রবেশদ্বারে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে লকডাউনের এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। রাত ৮ টা ৪০ মিনিটের সময় এ সভা শুরু হয়। চলে রাত সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত। সভায় যোগ দেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ ভার্চুয়াল সভায় অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সুপার মো: খাইরুল আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক হাজী রবিউল ইসলাম, সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মো: আব্দুল মোমেন, হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: তাপস কুমার সরকার, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা: সালেক মাসুদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা.মুসা কবিরসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ গ্রহণ করেন। এদিকে গত ১৭ জুন কুষ্টিয়া জেলায় এ যাবৎকালের রেকর্ড করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২৪ ঘন্টায় ৩৯৯ টি স্যাম্পল পরীক্ষায় ১৫৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চার জনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার কুষ্টিয়ায় নতুন করে ১৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত দু’ দিনে হাপসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দুজন চিকিৎসকসহ তিন জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সভায় বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কুষ্টিয়া জেলায় ক্রমেই করোনা পরিস্থিতির অবণতি ঘটছে। প্রতিদিনই শনাক্ত এবং মৃত্যুর নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করেও পরিস্থিতির কোন উন্নতি হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমাদের সামনে আরো কঠোর হওয়া ছাড়া অন্য কোন বিকল্প পথ নেই। ঢাকা থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল এ সভায় যোগ দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি বলেন, প্রয়োজনে আমাদেরকে আরো কঠোর হতে হবে। যে কোন মূল্যে জেলায় করোনা পরিস্থিতির এই ক্রমাবণতি রুখে দিতে হবে। এ জন্য তিনি সবাইকে একজোট হয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে করোনার মোকাবেলা করার আহবান জানান। সভায় জেলার বর্তমান করোনা পরিস্থিতির ক্রমাবণতি ঘটায় সর্ব সম্মতিক্রমে আগামী ১৯ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সভায় লকডাউন যাতে শতভাগ কার্যকর করা যায় সেজন্য ম্যাজিষ্ট্রেটের সাথে পুলিশ-র‌্যাবকে মাঠে নামানোর কথা জানানো হয়। প্রয়োজনে বিজিবি’র সহায়তা গ্রহণ করা যেতে পারে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়। এর আগে করোনার বিস্তার রোধে গত ১১ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের পৌর এলাকায় ৭ দিনের কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন জেলা প্রশাসক। তবে সেই কঠোর বিধি নিষেধ আরোপের কোন সুফল পাওয়া যায়নি। জনসাধারণকে তেমন একটা বিধি নিষেধ মেনে চলতে দেখা যায়নি। মাঠ পর্যায়ে বিধি নিষেধ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসন অনেকটাই ব্যর্থ হয়।

error: Content is protected !!