কুষ্টিয়া প্রতিনিধি॥ কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও শহর আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ মীর রেজাউল ইসলাম বাবু(৫৫)র বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও চাঁদা না পেয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বেলা সাড়ে তিনটা কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ এনে এজাহার দিয়েছেন শহরের চৌড়হাস ক্যানাল পাড়ার বাসিন্দা পরিবহণ শ্রমিক রিপন বিশ^াস(৩৫) নামে এক ভুক্তভোগী। লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) পুলিশ পরিদর্শক শতকত কবীর।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চৌড়হাস গ্রামের ক্যানাল পাড়ার বাসিন্দা আতিয়ার বিশ^াসের ছেলে রিপন

বিশ^াস(৩৫) একজন পরিবহণ শ্রমিক। চৌড়হাস-কুমারখালী মাহেন্দ্র পরিবহণ ষ্ট্যান্ডের ষ্টাটার হিসেব কর্মরত। বিগত ৭বছর যাবৎ প্রতিদিন এই মহেন্দ্র কাউন্টার থেকে স্থানীয় কাউন্সিলর ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল ইসলামের বাবুর নেতৃত্বাধীন চাঁদাবাজ গ্রুফ প্রতিদিন ১হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়ে আসছে। গত শুক্রবার পরিবহণ কম চলাচলের কারণে টাকা কালেকশন কম হওয়ায় ১হাজার টাকার স্থলে ৮শ টাকা দিতে গেলে কাউন্সিলর বাবু তাকে নিজ অফিস কক্ষে আটকে রেখে বুলে সর্টগান চেপে ধরে সেখানে উপস্থিত অন্যান্য চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের দিয়ে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে নীলাফোলা ও রক্তাক্ত জখম করে। এসময় পরিবহণ শ্রমিকের আর্ত চিৎকারে আশপাশে লোকজন জড়ো হওয়ায় মারধরকারী সন্ত্রাসী বাহিনী সরে যায়।
এঘটনায় গুরুতর আহত রিপন বিশ^াস স্থানীয়দের সাহায্যে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে এসে ভর্তি হন। পরে ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানায়। রিপন বিশ^াসের অভিযোগ কুষ্টিয়া টার্মিনাল এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ এমন কোন অপরাধ নেই যার সাথে কাউন্সিলর বাবু’র সম্পর্কে। স্থানীয়রা সবাই আসলে বাবু কাউন্সিলরের সন্ত্রসী বাহিনীর কাছে জিম্মি। এর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস নেই কারো।
এবিষয়ে কুষ্টিয়া ১৯নং পৌর কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম বাবু’র সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি পাল্টা অভিযোগকারী রিপন বিশ^াসকে মাদক সেবী ও মাদক বিক্রেতা আখ্যায়িত করে তার চৌড়হাস এলাকায় কোন মাদক বিক্রেতার স্থান নেই। রিপনের মাদক ব্যবসাতে বাধা দেয়ায় এভবে ক্ষেপে গেছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি শওকত কবীর বলেন, শহরের চৌড়হাস এলাকার রিপন নামে এক পরিবহন শ্রমিক চাঁদা দাবি ও মারধরের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোন কোন দলের বা কোন পদের লোক সেসব দেখার কোন সুযোগ নেই পুলিশের।

error: Content is protected !!