দৌলতপুর প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অনুমোদনহীন ও অবৈধ এক ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কোলদিয়াড় গ্রামে মজনুর রহমান মজনুর অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, দৌলতপুরের কোলদিয়াড় গ্রামে মজনুর রহমান মজনুর অবৈধ ইটভাটায় দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আজগর আলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালায়। এসময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইটভাটায় জ্বালানী হিসেবে কাঠ পুড়ানো সহ সরকারের অনুমোদন না থাকায় বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৪(গ)/১৫ ধারায় ইটভাটার মালিক মজনুর রহমান মজনুর অবর্তমানে ভাটার ম্যানেজার মজিবর রহমানকে ৫০ হাজার জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক। একই সাথে ইটভাটায় জ্বালানী হিসেবে কাঠ না পুড়ানোর জন্য তাকে সতর্ক করার পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে দৌলতপুরের আরও ১০টি অবৈধ ইটভাটা অভিযানের আওতায় না আসায় সাধারণ জনগণ ও অভিযানের আওতায় আসা ভাটা মালিকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। গত জানুয়ারী মাসের ১৮ ও ২০ তারিখে পরিবেশ অধিদপ্তরের পৃথক অভিযানে দৌলতপুরের অবৈধ ১৫টি ইটভাটা থেকে ৮০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। জরিমানার অর্থ দৌলতপুর ইটভাটা মালিক সমিতি পরিশোধ করার কথা থাকলেও তা না করায় ২৫ জানুয়ারী সন্ধ্যায় দৌলতপুর গার্লস হাইস্কুলে সমিতির জরুরী সভায় এ নিয়ে ভাটা মালিকদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে এবং যে সকল ভাটায় অভিযান হয়নি তা নিয়ে চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ওই সভায়।

জানাগেছে, দৌলতপুরের ২৬টি অবৈধ ইটভটার মধ্যে গতকালের অভিযান সহ ১৬টি ইট ভাটায় ভ্রাম্যমান আদালত ও পরিবেশ অধিদপ্তর পৃথক অভিযান চালায়। বাঁকী ১০টি ইটভাটার মধ্যে দৌলতপুর ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি রমজান আলীর চকদৌলতপুর গ্রামের ইটভাটায় অভিযান না হওয়ায় ভাটা মালিকদের একাংশ চরম ক্ষুব্ধ রয়েছেন। এছাড়াও স্বরুপপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম, মানিকদিয়াড়-সাদীপুর গ্রামের আনোয়ার আলী, হজমদ্দিন, রিফাইতপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম ওলি, হাসপাতাল রোডের সুলতান আলী, কিশোরীনগর গ্রামে রনি, বড়গাংদিয়া গ্রামের হাবলু মোল্লা ও গোয়ালগ্রামের সুমন আলীর ভাটা সহ ১০টি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান না হওয়ায় এলাকার সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেছেন, জনবসতি ও আবাদী ফসলের মাঠে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটায় অবাঁধে জ্বালানী হিসেবে কাঠ পুড়ানোর কারনে একদিকে যেমন পরিবেশ বিপর্যস্থ হচ্ছে, অপরদিকে ক্ষেতের ফসলও বিনষ্ট হচ্ছে। তাই অবৈধ এসব ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগীরা।

error: Content is protected !!