নিজস্ব প্রতিনিধি : না ফেরার দেশে চলে গেলেন কুষ্টিয়ার একমাত্র নারী ডেলিভারী ম্যান (খাদ্য সরবরাহকারী) কলেজ ছাত্রী রজনী অধিকারী (১৮)। ৮ মার্চ (সোমবার) নারী অধিকার দিবসের দিন রাত ১১ টার দিকে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন রজনী। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবির রজনীর আত্মহননের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পারিবারিকভাবে বলা হচ্ছে বন্ধুর উপর অভিমান করে রজনী আত্মহননের পথ বেছে নেন। তবে রজনীর আত্মহত্যা রহস্য নিয়ে ধ্র“মজাল তৈরি হয়েছে। রজনী অধিকারী কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার ৯ নম্বর পলানবক্স এলাকার অশোক অধিকারীর মেয়ে। তিনি খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুড প্যান্ডার কুষ্টিয়া জেলার একমাত্র এবং বাংলাদেশের হাতে গোনা সাত-আট জন নারী খাদ্য সরবরাহকারী মধ্যে একজন ছিলেন। ২০১৮ সালে কুষ্টিয়া হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন রজনী। বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরের আইডিয়াল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছেলেদের মত ছোট করে ছাঁটা চুল। দুই হাতের আঙুলে নান্দনিক আংটি। পরনে জিনস আর টি-শার্ট। এক সময় যেসব কাজ শুধু পুরুষের ছিল, সেসব কাজ যে নারীরাও আনন্দ নিয়েই করেছেন, রজনী তারই উদাহরণ। শৈশব থেকেই অদম্য সাহসী ছিলেন রজনী। রোদ,বৃষ্টি, ঝড় কোন কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি রজনীর জীবনে। কখনো বাইসাইকেল কখনো বা মটরবাইক নিয়ে শহর দাপিয়ে বেড়াতেন রজনী।

নিহতের বাবা অশোক অধিকারী জানান, রজনী খুব রাগী এবং অভিমানী ছিল। বন্ধুর ওপর অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ফুড পান্ডার কুষ্টিয়া অফিসের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ফজলে রাব্বী জানান, রজনী খুব বিনয়ী ছিলেন। মন দিয়ে কাজ করতেন। খুব পরিশ্রমী ছিলেন। অল্প দিনেই সে গ্রাহকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রজনীর বান্ধবীরা জানান, রজনী খুব জেদি প্রকৃতির মেয়ে ছিল। যখন-তখন মান অভিমান করে হাত কাটত, না খেয়ে থাকত। বান্ধবীদের দাবি রাজবাড়ী জেলায় তার এক বন্ধুর উপর অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত কবির জানান, মঙ্গলবার সকালে রজনীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

error: Content is protected !!