ভেড়ামারা প্রতিনিধি : গাছ এবং মানুষ একে অপরের উপর র্নিভরশীল। গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে মানুষ তা গ্রহণ করে এবং মানুষ কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত করে তা গাছ গ্রহণ করে। তাই গাছ না বাচঁলে মানুষ বাচঁবে না। এজন্য কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বৃক্ষ পেরেক মুক্তকরণ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলা চত্বরে এর শুভ উদ্বোধন করেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সোহেল মারুফ। পিয়ারুল ইসলাম নামের এক কৃষক এ কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকবেন। আজ রোববার উপজেলা চত্বর ও পৌর এলাকায় রাস্তার ধারে শতধিক গাছের সাথে লাগানো পেরেক উদ্ধার করেন।

ইউএনও সোহেল মারুফ বলেন, প্রকৃতির শোভা বর্ধনেই নয় গাছ আমাদের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে। গাছ থেকে যে পরিমাণ অক্সিজেন আমরা গ্রহণ করি ঠিক সেই পরিমাণ মানুষের শরীর থেকে বের হওয়া কার্বন-ডাই-অক্সাইড শুষে নেয় গাছ। তাই পিয়ারুল ইসলাম যে মহতী উদ্যোগ নিয়েছে সত্যিই প্রশংসনীয়। উপজেলার রাস্তার ধার থেকে বিভিন্ন গাছে আটকানো পেরেক তুলতে তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছে আমরা তাকে সহযোগিতা করবো।

পিয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রায় লক্ষ্য করা যায় রাস্তার পাশে বিভিন্ন নামি দামি লোকের বা পেশার মানুষের নাম পদবী খচিত সাইনর্বোড লোহার পেরেক দিয়ে বসানো বা আটকানো থাকে গাছের শরীরে। গাছকে এভাবে আঘাত করা জীববৈচিত্র্যর জন্য ক্ষতিকর। তাই আমি আরও অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি গাছ থেকে পেরেক তুলতে কাজ করবো। এরআগেও আমি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ধারে প্রায় তিন হাজার তালের বীজ রোপণ করেছি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দেশের আয়তন ও জনসংখ্যানুপাতে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন কিন্তু বাস্তবে রয়েছে ৮-১০ ভাগ বনভূমি। মানুষের প্রয়োজনে গাছের কথা বলে শেষ করা যাবে না। অক্সিজেন তৈরি এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ ছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি থেকে আমাদের রক্ষা করে। বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ প্রকৃতিকে নয়নাভিরাম দৃশ্যে পরিণত করে। সবুজ বৃক্ষের সমারোহ আমাদের দৃষ্টিশক্তিকে আরও প্রখর করে। শুধু কি তাই— গাছ আমাদের ফল দেয়, ছায়া দেয়, জীবন রক্ষায় ওষুধ দেয়, গাছের কাঠ দিয়ে আমরা ঘরের শোভা বর্ধনে এবং ব্যবহারে প্রয়োজনে আসবাবপত্র তৈরি করতে পারি। অভাব ও বিপদে টাকার জোগান দেয়।

 

error: Content is protected !!