ইবি প্রতিনিধি : বিশ্বব্যাপী প্রচলিত স্কাউটিং আন্দোলন প্রতিষ্ঠার ১১৪ বছর পর এ বিষয়ে প্রথম ডক্টর অফ ফিলোসফি (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জনের দাবি করেছেন ঈসা মোহাম্মদ। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০০২-০৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের ১১৯তম সভার সুপারিশক্রমে এবং ২৫০তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে পিএইচডি ডিগ্রির অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের পিএইচডি গবেষক। এর আগে ঈসা মোহাম্মদ তার নিজ বিভাগ থেকে এমফিল ডিগ্রি সম্পাদন করেন।

তার পিএইচডি গবেষণাকর্মের বিষয় ছিল ‘ইসলাম ও স্কাউটিংয়ে শিক্ষাদান পদ্ধতির তুলনামূলক পর্যালোচনা: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়’। তার গবেষণাকর্মের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আ ব ম সাইফুল ইসলাম সিদ্দীকী। এছাড়া পরীক্ষা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহা. ইউনুছ এবং বহিরাগত সদস্য ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মসিহুর রহমান।

ড. ঈসা মোহাম্মদ চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ের ন্যাশনাল পাবলিক কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ছিলেন। বর্তমানে তিনি তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব আল কুরআন রিসার্চ অ্যান্ড লার্নিংয়ের (আইআইকিউআরএল) পরিচালক। তিনি রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার কিশামত হাবু গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস ও শামসুন্নাহার বেগমের ছেলে।

ড. ঈসা তার গবেষণার বিষয়ে বলেন, ‘স্কাউটিং প্রতিষ্ঠা করেছেন ব্যাটেন পাওয়েল। স্কাউটিং এবং ইসলাম উভয়ই মানবতার কল্যাণে। আমরা এ গবেষণা থেকে বুঝি দুটিই মানবতার কল্যাণে এবং দুটোর মধ্যে প্রচুর সামঞ্জস্য রয়েছে। স্কাউটিংয়ের প্রতিষ্ঠাতার ম্যাসেজের সঙ্গে ইসলামিক ম্যাসেজের পুরোপুরি মিল রয়েছে। অসামঞ্জস্যতা তেমন খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মহানবী (সা.) যুবকদের নিয়ে হিলফুল ফুজুল গড়ে তুলেছিলেন। তাদেরকে সুশৃঙ্খল করেছিলেন। যে দেশের যুবসমাজ যতবেশি সুশৃঙ্খল সে দেশ ততবেশি উন্নত। এই যুবক শ্রেণি যেন দেশের কল্যাণে এগিয়ে আসে সেটা নিয়ে কাজ করাই আমার লক্ষ্য ছিল।’

error: Content is protected !!