কুষ্টিয়া চিনিকলের সুরক্ষিত গোডাউন থেকে রহস্যজনকভাবে ৫২ দশমিক ৭শ মেট্রিক টন চিনি উধাও হওয়ার ঘটনার চার দিন পর অবশেষে শনিবার রাতে মিল কর্তৃপক্ষ কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বৃহস্পতিবার মিলের গোডাউন থেকে চিনি উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে গোপন করে রাখে। ঘটনার দুদিন পর এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে শনিবার রাতে চিনিকলের সহকারী ব্যবস্থাপক হায়দার আলী কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডিতে খোয়া যাওয়া চিনির পরিমাণ উল্লেখ করে হয়েছে ৫২ দশমিক ৭শ মেট্রিক টন এবং যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৩৩ লক্ষ বিশ হাজার একশত টাকা। জিডিতে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন এবং স্টোর কিপার ফরিদুল হককে বরখাস্তের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে বন্ধ হয়ে থাকা কুষ্টিয়া সুগার মিলের সুরক্ষিত গোডাউন থেকে রহস্যজনকভাবে চিনি উধাও হওয়া সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয় পর থেকে কুষ্টিয়াসহ গোটা দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিনিকলের সাধারণ শ্রমিক কর্মচারীরা বলছেন এ ঘটনায় বলির পাঠা করা হচ্ছে স্টোর কিপার ফরিদুল ইসলামকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই চুরির সাথে মিলের বর্তমান এমডি, ক্যাশিয়ার, সিকিউরিটি ইনচার্জসহ অনেকেই জড়িত রয়েছেন। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। এদিকে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে চিনিকলের মহা-ব্যবস্থাপক (কারখানা) কল্যাণ কুমারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বলয় ভেদ ও সুরক্ষিত গোডাউনে রক্ষিত এত বিপুল পরিমাণ চিনি কিভাবে গায়েব হলো তা নিয়ে চিনিকলের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
প্রসঙ্গত, ধারাবাহিক লোকসানসহ নানা কারণে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ব ১৫ টি চিনিকলের মধ্যে কুষ্টিয়াসহ ৬টি চিনিকলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় সরকার। চিনিকলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হলেও গত তিন মৌসুমের উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ চিনি অবিক্রিত রয়ে যায়।
চুরির ঘটনায় মিল কর্তৃপক্ষের জিডি প্রসঙ্গে কুষ্টিয়া মডেল থানার (ওসি) সাব্বিরুল আলম জানান,থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, কুষ্টিয়া চিনিকলে অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা এটিই নতুন নয়। এর আগে দুর্নীতির দায়ে ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর কুষ্টিয়া চিনিকলের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মুর্শেদ (এমডি) চিনিকলের সিবিএ সভাপতি ফারুক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমানকে একযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত ১৯ বছরে কুষ্টিয়া চিনিকলটিতে লোকসান হয়েছে ৪২০ কোটি টাকা। ফলে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের দৌরাতœ, চরম দুর্নীতি,ব্যবস্থাপনা ক্রুটি ও ক্রমাগত লোকসানে ২০২০-২১ অর্থ বছর মিলে আখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এদিকে ঐতিহ্যবাহী এ মিলটি বন্ধ থাকায় প্রায় এক হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্ম হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

error: Content is protected !!