রানা কাদির, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা গুলোত ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে করোনার উপসর্গ। স্বাস্থ বিধি মানার বালায় নেই পরীক্ষা করাতে চাচ্ছেন না কেউ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চাঁর জনের মৃত্যু হয়েছে। আতংকিত হয়ে পড়েছে সচেতন মহল। এলাকায় নতুন করে যাতে আক্রান্ত না বাড়ে সে বিষয়ে করনীয় নিয়ে আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে কোভিড-১৯এর উপজেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বর্তমানে আক্রান্ত ৮৪ জনের মধ্যে দামুড়হুদা উপজেলায় ৩৬জন রয়েছে। এরমধ্যে ভারত থেকে আসা ১১জনের মধ্যে দামুড়হুদা উপজেলার সাতজন।

উপজেলার সীমান্তবর্তী মুন্সিপুর,কুতুবপুর,কুড়লগাছি,কার্পাসডাঙ্গা,ঝাঝাডাঙ্গা,নাস্তিপুর,বলদিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মধ্যে জ্বর,ঠান্ডা,কাসিসহ ব্যাপক হারে করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ব্যপক হারে উপসর্গ দেখা দিলেও পরীক্ষা নিরিক্ষা করাতে নারাজ ভূক্ত ভূগিগণ। সীমান্তবর্তী গ্রাম গুলোতে ব্যপক হারে করোনার উপসর্গ, আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় আতংকিত হয়ে পড়েছে এলাকার সচেতন মহল। বর্তমানে দামুড়হুদা উপজেলায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত সংখা দাড়িয়েছে ৩৬ জনে।এরমধ্যে ভারত থেকে দর্শনা চেকপোষ্ট দিয়ে আসা আক্রান্ত ১১জনের মধ্যে ৭জন দামুড়হুদা উপজেলার। এরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ইউনিটে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকী ২৫জন নিজ নিজ বাড়ীতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই সীমান্তবর্তী এলাকায় ৪জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা হলেন, কার্পাসডাঙ্গার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে রেজাউল করিম, শীবনগর গ্রামের চুল ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম, চন্ডিপুর গ্রামের আলোম শেখের স্ত্রী আমেনা খাতুন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যায় সর্বশেষ ২৯ মে কার্পাসডাঙ্গা মাঝের পাড়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে আব্দুল মান্নানের মৃত্যু হয়। ব্যপক হারে মৃত্যু ও আক্রন্তের হার বৃদ্ধি পেলেও সাধারন মানুষ মানছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের দেওয়া নিদেশনা।

কয়েক দিনের মধ্যে আক্রান্ত মৃত্যু ও ব্যাপক হারে উপর্স্গ দেখা দেওয়ায় করনীয় বিষয় নিয়ে উপজেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্বি করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলি মুনছুর বাবু। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদিপ্ত সিংহ,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল মতিন।সভায় সীমান্ত দিয়ে চোরায় পথে যেন কোন ভাবে কেউ আসা যাওয়া করতে না পারে সে বিষয় বিজিবি,পুলিশসহ ইউপি চেয়ারম্যনসহ সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানানো হয়। সেই সাথে যারা উপসর্গ নিয়ে ভুগছেন তাদের এলাকায় বা মহল্লা গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানোসহ স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যান দেরকে সেচ্ছাসেবক দল গঠন করে সর্বক্ষনিক তদারকি করার আহবান জানানো হয়। সকলের সচেতনার লক্ষে ব্যপক ভাবে মাইকিং করারা স্ধীান্ত হয়। সেই সাথে সীমান্ত এলাকা গুলোতে অনেক গুলো চুল প্রসেসিং কারখানা রয়েছে। যেখানে হাজার হাজার মহিলা পুরুষ কর্মরত রয়েছে অথচ সেখানে স্বাস্থ্য বিধি বা সামাজিক দুরুত্ব রজায় রাখার বালায় নেই। এই সব প্রসেসিং কারখানা গুলোতে সামাজি দুরুত্ব বজায় রাখা সহ স্বাস্থ বিধি মেনে কাজ করার ব্যবস্থা করার করতে হবে। গ্রাম পুলিশদেরকে সজাগ দৃষ্টি রেখে এসকল তথ্য উপজেলা প্রশাসন কে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ সীমান্তবর্তী এলাকা গুলোর করোনার উপসর্গ, আক্রান্ত ও মৃত্যুর চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন,সীমান্তবর্তী কার্পাসডাঙ্গা ইউপির চেয়ারম্যন খলিলুর রহমান ভুট্টু,পারকৃষœপুর-মদনা ইউপি চেয়ারম্যন এস এম জাকারিয়া আলম,কুড়–লগাছি ইউপি চেয়াম্যান শাহ এনামুল করিম ইনু,নতিপোতা ইউপির চেয়ারম্যান ইয়ামিন আলি,দামুড়হুদা সদর ইউপির চেয়ারম্যান শরিফুল আলম মিল্টন ও হাউলি ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন ।

error: Content is protected !!