রানা কাদির, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামে গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পরই স্বামী পালিয়ে গেছে। শ্বাশুড়ি নুরজাহান বেগমকে আটক করেছে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার দিনগত রাত ৩টার সময় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধু মারা যায়। দু’ সন্তানের জননী মৃত গৃহবধূ নুরজাহান খাতুন (৪০) লোকনাথপুর গ্রামের মাঝপাড়ার জাহান আলীর স্ত্রী এবং দর্শনা পৌরসভার রামনগর গ্রামের মরহুম আজিজুল হকের মেয়ে। তার বিউটি খাতুন ও জামিনুর রহমান নামে ১ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে।

মৃত নুরজাহান খাতুনের মা রহিমন বেগম ও ভাই সুন্নত আলী জানান, জাহান আলী ও তার মা নুরজাহান তাকে মারধর করতো। এর আগে একবার তালাক নেয়া হয়েছিলো। দুটি সন্তানের কথা ভেবে আবারও সংসার পাতিয়ে দেয় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তবে জাহান আলী ছিল পাষন্ড। তারই নির্যাতনে অবশেষে নুরজাহান মারা গেলো।

হাউলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিকাত আলী বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো গৃহবধু নুরজাহানকে। এরপর সেখানে ভোর রাত ৪টার দিকে সে মারা যায়। মৃত গৃহবধুর শরীরের সমস্ত জায়গায় নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় ও চোখে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়েছে। শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেছে।

প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল খালেক জানান, যৌতুকের দাবীতে বৃহস্পতিবার দুপুরে কয়েকদফা মারপিট করে স্বামী জাহান আলী। এর পর তাকে বাড়িতে ফেলে রাখে। শুক্রবার তার শারিরীক অবস্থার অবনতি দেখা দিলে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয় শ্বশুর বাড়ির লোকজন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর রাত ৪টার দিকে নির্যাতিত গৃহবধু নুরজাহান খাতুন মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সুন্নত আলী বাদী হয়ে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

error: Content is protected !!