রানা কাদির, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : আউশ আবাদ সম্প্রসারণের জন্য বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ ও মাঠপর্যায়ে যথাযথ বাস্তবায়নের ফলে দেশে আউশ আবাদ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে যেখানে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় আউশ ধানের আবাদ ছিল ৬৮০০ হেক্টর সেখানে ২০২০-২১ অর্থবছরে আবাদ হয়েছে ১৫৬৮৫ হেক্টর যা পূর্বের তুলনায় ৮৮৮৫ হেক্টর বা দ্বিগুণেরও বেশি। বিগত কয়েক বছরে সরকারি প্রণোদনায় বিনামূল্যে আউশ ধানের বীজ ও সার কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা, উচচ ফলনশীল আধুনিক জাতের আউশ ধানের বীজের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়া, কৃষি উপকরণের(সার ও বালাইনাশক) সহজলভ্যতা এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণের মাধ্যমে কৃষক উদ্বুদ্ধকরণ, নিবিড় মনিটরিং ও পরামর্শ সেবা প্রদানের ফলে লাভজনক আউশের আবাদ প্রতিবছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে। করোনাকালীন বৈশ্বিক দুর্যোগে যেখানে সারা পৃথিবীতে খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টা অধিকতর গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠেছে সেখানে আউশ উৎপাদনের এমন রেকর্ড আশাবাদি করে। আজ সকালে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আউশ প্রণোদনায় ৩৮০০ কৃষককে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা সমমূল্যের উচ্চফলনশীল আউশ ধানের বীজ ও সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। বিতরণ কার্যক্রম শুভ উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম সরকার। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাদিকুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার তালহা জুবাইর মাসরুর সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষক-কৃষানি। জেলা প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম সরকার বলেন- বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকারের কৃষি বিষয়ক নানামুখি উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল পাচ্ছে আমাদের কৃষকেরা। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কে উৎসাহিত করতে বিনামূল্যে বীজ ,সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ সহ, খামার যান্ত্রিকীকরণ ও কৃষি সেবা সহজীকরণের যেসকল উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেছে তা নিঃসন্দেহে কৃষির উন্নয়ন অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর জানান- বিগত কয়েকবছর থেকেই আমরা কৃষকদেরকে আউশ ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করছি কারণ আউশ ধান চাষ বৃষ্টি নির্ভর ও ভুগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হয়না বলে কৃষকের উৎপাদন খরচ কম হয়। বোরো ও আমন অপেক্ষা কম সময়ে ধান সংগ্রহ করা যায় ফলে আউশ ধানের পরে আগাম সবজি চাষের সুযোগ পাওয়া যায়। মাসরুর বলেন- চুয়াডাঙ্গাতে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ভিন্ন ধরনের শস্য বিন্যাস চালু রয়েছে যেখানে আউশ ধান অন্যতম জনপ্রিয় চাষ হিসেবে কৃষকের কাছে বিবেচিত হচ্ছে। উদাহরণ স্বরূপ এখানে অধিকাংশ কৃষক মাঠফসল হিসেবে ভুট্টা-আউশ-সবজি অথবা সব্জি-আউশ-সব্জি বা ভুট্টা-সব্জি-আউশ কিংবা বোরো-আউশ-আগাম সবজি বিন্যাসে ফসল আবাদ করে থাকে। ভুট্টা আবাদে দেশের শীর্ষস্থানীয় এলাকা হিসেবেও চুয়াডাঙ্গায় ভুট্টা সংশ্লিষ্ট শস্য বিন্যাসে আউশ ধান সবচেয়ে উপযুক্ত ও লাভজনক ফসল। শস্য বিন্যাস ও বৃষ্টি নির্ভরতার জন্য অত্র এলাকায় আউশ রোপণ দেরিতে হয় কিন্তু উৎপাদন খরচ কম, স্বল্পজীবন কালের উন্নত জাত ব্যবহারে কৃষকের জন্য আউশ আবাদ লাভজনক হওয়াতে বিগত কয়েকবছরে আউশের আবাদ উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে।

error: Content is protected !!