ঢাকা অফিস : মানুষের জীবন-জীবিকা গুরুত্ব দিয়ে এবারের বাজেট। প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ছয় লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে ঘাটতি দুই লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ এবারও বড় ঘাটতির বাজেট। ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি এক লাখ ৮৭ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

করোনাভাইরাস মহামারিকালে ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫০তম বাজেট এটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের তৃতীয় বাজেট এটি। এতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে জনপ্রশাসনে। ভর্তুকি, প্রণোদনা, পেনশনসহ মোট পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের ১৮.৭ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এ খাতে। বরাদ্দের পরিমাণ এক লাখ ৮৫ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। যদিও আনুপাতিক হারে এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা কম। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে জনপ্রশাসনে মোট বাজেটের ১৯.৯ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তিখাত। এ খাতে মোট বাজেটের ১৫.৭ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের পরিমাণ ৮৫ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। আনুপাতিক হারে চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ কিছুটা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট বরাদ্দের ১৫.১ শতাংশ দেওয়া হয় শিক্ষা ও প্রযুক্তিখাতে।

বাজেটে সরকার যে বাড়তি ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে, তার সিংহভাগই হবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব মোকাবিলায়। এর অংশ হিসেবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত সংকট মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরেরও ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আবার করোনাভাইরাসের কারণেই সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতা বাড়িয়েছে সরকার। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট এক লাখ সাত হাজার ৬১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত এ বাজেটে, যা মোট বাজেটের ১৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জিডিপির ৩ দশমিক ১১ শতাংশ। যেখানে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা।

আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে করের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে এ বাজেটে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কর দেওয়ায় সমর্থ হলেও কর প্রদানকারীর সংখ্যা বর্তমানে মাত্র ২৫ লাখ ৪৩ হাজার। ফলে কর ফাঁকি রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণসহ তাদের কর জালের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এ বাজেটে থাকবে। এছাড়া আমাদের রাজস্ব জিডিপির অনুপাত সম-অর্থনীতির অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। ফলে রাজস্ব জিডিপি অনুপাত বর্তমানের যৌক্তিক পর্যায়ে বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা

২০২১-২২ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছিল। তবে তা পরে সংশোধন করে ৬ দশমিক ১ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটটিও প্রণয়ন করা হচ্ছে কভিড-১৯ মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী চলমান একটি ক্রান্তিকালে। যখন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভাইরাসের দ্বিতীয় এবং কোথাও কোথাও চলছে তৃতীয় ঢেউ। বৈশ্বিক এ প্রাদুর্ভাবের ভরকেন্দ্র সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া মহাদেশ, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দিকে সরে আসছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

৫ দশমিক ৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য

প্রস্তাবিত এ বাজেটে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেট বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত এক দশকে বাংলাদেশের ক্রমাগত উচ্চ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন কভিড-১৯ এর প্রভাবে সাময়িক বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে রেকর্ড ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে করোনাভাইরাসের কারণে তা হ্রাস পেয়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কভিড-১৯ এর প্রভাব হতে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার হবে ধরে নিয়ে চলতি অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। কিন্তু এ মহামারির প্রভাব দীর্ঘতর হওয়া এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এবং পুনরায় লকডাউন ঘোষণার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শ্লথ অবস্থা বিরাজমান এবং রপ্তানি ও আমদানির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরে পায়নি। তবে প্রবাসী আয়ে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়া এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সরকার ঘোষিত বৃহৎ প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করে চলতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন সংশোধন করে ৬ দশমিক ১ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কভিড-১৯ পরবর্তী উত্তরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশ হবে মর্মে আশা করছি।’

৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে তিন লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) উৎস থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর-বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরিত হবে আরও ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে ঘাটতি পূরণ যেভাবে

এ বাজেটে যে ঘাটতি দেখানো হয়েছে, তার পরিমাণ অনেক বড়; তা পূরণের একটি রূপরেখা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বাজেটে ঘাটতি দাঁড়াবে দুই লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এই হার গত বাজেটে ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। ঘাটতি পূরণ অর্থায়নে বৈদেশিক উৎস থেকে এক লাখ এক হাজার ২২৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।

তিনি এও বলেন, অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সংগৃহীত হবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক-বহির্ভূত খাত থেকে আসবে ৩৭ হাজার ১ কোটি টাকা।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

বাজেটে মুঠোফোন (সেলুলার ফোন) আমদানিতে শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে বিদেশি মুঠোফোনের দাম আরও বাড়তে পারে। মাংস আমদানিতেও শুল্কহার বাড়ানো হয়েছে। বসানো হয়েছে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট। আবার ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্যের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিদেশি মাংসের দাম বাড়বে। দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা দিতে কাজটি করেছে সরকার।

বিদেশি মাশরুমের দাম অনেকটাই বাড়তে পারে। এই মাশরুম আমদানিতে শুল্ক ৫ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাশরুম আমদানিতে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য আরোপের কথা বলা হয়েছে। চাষিদের সুরক্ষা দিতে গাজর, ক্যাপসিকাম, কাঁচামরিচ, টমেটো ও কমলা আমদানিতে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য আরোপের কথা বলা হয়েছে। এতে এসব পণ্য আমদানিতে কম দাম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া যাবে না। দাম বাড়তে পারে। গাজরের ওপর ভ্যাটও আরোপ করা হয়েছে।

শিল্প লবণের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। এতদিন শিল্প লবণের নামে ভোজ্য লবণ আমদানি হত। এখন দুই লবণের করহারের সমন্বয় করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে বিদেশি সাবানের ওপর। এতে দাম বাড়তে পারে। বিদেশি রড ও সমজাতীয় পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এতে দাম বাড়তে পারে। অবশ্য রডের বাজার মূলত দেশীয় কোম্পানির দখলে।

দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

দাম কমতে পারে স্যানিটারি ন্যাপকিনের। এদিকে সুরক্ষা সামগ্রীতে শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা আগেই ছিল। এবার করোনা শনাক্তের আরটি-পিসিআর কিট তৈরির কাঁচামাল আমদানিতেও শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামের মানুষের স্যানিটেশন সুবিধা বাড়াতে দেশে উৎপাদিত লং প্যানের সম্পূরক শুল্কও তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ছিল।

অটিজম সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মেডিটেশন সেবার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

ইস্পাতের ওপর সুনির্দিষ্ট শুল্ক টনপ্রতি এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। দেশে তৈরি রডসহ লৌহজাত পণ্য ও সিমেন্টের দামও কমবে। এসব পণ্যের উৎসে কর কর্তনের হার ৩ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া সিমেন্ট আমদানিতে করহার ৩ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি লৌহজাত পণ্যের কিছু কাঁচামালে আগাম কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মুরগি ও মাছের খাবারের উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এতে মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুর খাবারের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামালে আবার শুল্ক ছাড় দিয়েছে সরকার। এতে ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদনে ব্যয় কমবে। এছাড়া ওষুধ শিল্পের আরও কিছু কাঁচামালে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেশকিছু মেডিকেল যন্ত্রাংশ উৎপাদনেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডায়ালাইসিস সেবায় ব্যবহার করা ব্লাড টিউবিং সেটের কর কমানো হয়েছে।

গৃহস্থলী কাজে দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য ব্লেন্ডার, জুসার, মিপার, গ্রাইন্ডার, ইলেক্ট্রিক কেটলি, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার, প্রেসার কুকার, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন ও ইলেক্ট্রিক ওভেন উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশে এলপিজি সিলিন্ডার উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতেও রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

প্রিন্টার, কার্টিজসহ কম্পিউটার প্রিন্টারের যন্ত্রাংশ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, নোটবুক, নেটপ্যাড, ট্যাব, সার্ভার, কিবোর্ড, মাউস, স্কানার, র্যা ম, পাওয়ার ব্যাংক, রাউটার, মডেম, স্পিকার, হার্ড ডিস্ক ড্রাইভ, পেনড্রাইভ, ইয়ারফোন, মেমোরি কার্ড, সিসিটিভি, মনিটর, প্রজেক্টর, ডাটা ক্যাবল, ডিজিটাল ওয়াচের স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। ক্যাবল ও ইন্টারনেট ক্যাবল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে কাঁচামাল আমদনিতে শুল্ক কামানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। দেশে এলইডি লাইট উৎপাদনে যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমাবে।

কৃষিখাতের আধুনিকায়নে কৃষি যন্ত্রপাতিতে ভ্যাট অব্যবহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে নিড়ানি ও ঝাড়াইকল উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি এবং থ্রেসার মেশিন, পাওয়ার রিপার, পাওয়ার ও রোটারি টিলার, অপারেটেড সিডার, কম্বাইন্ড হারভেস্টর নিড়ানি ও ঝাড়াইকল আমদানি পর্যায়ে আগাম কর অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।

নসিমন, লেগুনার মতো দুর্ঘটনাপ্রবণ যানবাহন ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে বিকল্প গণপরিবহন হিসেবে মাইক্রোবাস ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে। এ জন্য মাইক্রোবাস আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়। একইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের জন্য জ্বালানি সাশ্রয়ী মোটরসাইকেল মপেড-এর সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

error: Content is protected !!