আবুল হোসেন, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: লকডাউন শিথিল হওয়ায় চলছে গণপরিবহন, কোরবানির পশুবাহি ট্রাকের কারনে বেড়েছে যানবহনের চাপ, তার উপর আবার পদ্মার তীব্র স্্েরাতে ফেরি চলাচল ব্যহত। এমন সমিকরণেই দৌলতদিয়া প্রান্তে সৃষ্টি হয়েছে পণ্যবাহী, পশুবাহী ও যাত্রীবাহী পরিবহনের দীর্ঘ সিরিয়াল।

প্রচন্ড রোদ আর গরমে আটকে থাকা যাত্রীদের দূর্ভোগের পাশাপাশি ট্রাকে থাকা গরুগুলো নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন গরু ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার ১৫ জুলাই ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে স্বরূপে ফিরেছে দৌলতদিয়া ঘাট। এত দিন ঘাটে নদী পাড়ের অপেক্ষায় মহাসড়কে যানবাহন দেখা না গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুরনো সেই পুর্বের দৃশ্যের আবির্ভাব। প্রতিটি যানবাহনকে ফেরির জন্য মহাসড়কে অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়।

বেলা ৪টা নাগাদ দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে অন্তত ৩কিলোমিটার দুরে বাংলাদেশ হ্যাচারীজ পর্যন্ত সৃষ্টি হয় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। সময় বাড়ার সাথে সাথে রোদ্রের তাপমাত্রা কমে গেলে বাড়বে সিরিয়ালও। এতে যাত্রীদের দূর্ভোগের পাশাপাশি গরুগুলো নিয়ে চরম দূর্ভোগে পরেছেন গরু ব্যবসায়ীরা।

প্রচন্ড রোদ ও গরমে বেশীর ভাগ গরুগুলো অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিটি ট্রাকে ৮/১০জন করে রাখাল অবিরাম গরুগুলোকে হাতপাঁখা দিয়ে বাতাস করে চলেছেন।

যশোর থেকে ছেড়ে আসা পরিবহন চালক আরমান আলী বলেন, ঘাটে কোন না কোন দূর্ভোগ থাকবে এটা মেনেই নিয়েছি। এখন একটু কষ্ট হলেও অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে। যাত্রীরা ছটফট করতে করতে অধর্য্য হয়ে গাড়ি থেকে নেমে গেছে।

কুষ্টিয়া থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী জয়দার মোল্লা বলেন, গরু নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি ,বেশি দামে বিক্রি করবো এ আশায়। কিন্তু ঘাটের যে অবস্থা তাতে গরু নিয়ে ঢাকায় পৌঁছুতে পারলেই হয়। ফেরি কখন উঠবো বলতে পারছিনা।

অপর দিকে ঢাকা থেকে প্রচুর যাত্রী বাড়ীর উদ্দ্যেশে আসছে। ফেরি ও লঞ্চে মানা হচ্ছে না কোন সামাজিক দুরুত্ব ।

ঢাকা থেকে ফেরিতে আসা যাত্রী রওশনারা বেগম বলেন, আমি বেসরকারী ফার্মে কাজ করতাম । লকডাউন চলা কালিন আমার অফিস বন্ধ হয়ে যায় । তার পর থেকেই বাসায় ছিলাম। গনপরিবহন চলাচল করায় গ্রামের বাড়ীর যাচ্ছি।

বিআইডাব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শিহাবুদ্দিন বলেন, এ রুটে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে। দু’একদিনের মধ্যে আরো দুইটি ফেরি এ নৌরুটে যুক্ত হবে। গরুর ট্রাক, যাত্রীবাহী পরিবহন ও নদীর তীব্র স্রোত সব মিলিয়ে ঘাটে যানবহনের সিরিয়াল হয়েছে। তবে দূর্ভোগ কমাতে যাত্রীবাহি যানবাহন ও কোরবানীর পশুবাহি ট্রাকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুতই গাড়ির সিরিয়াল কমে যাবে।

error: Content is protected !!