কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান বিচারপ‌তি ডক্টর রাধাবিনোদ পালের জীবনী নি‌য়ে বিগ বা‌জে‌টের চল‌চিত্র নি‌র্মিত হ‌তে যা‌চ্ছে। এ‌বি‌সিএল ই‌ন্ডিয়া, এ‌বি‌সিএল প্লাস মি‌ডিয়া বাংলা‌দেশ ও জে‌মি‌ডিয়া জাপা‌নের ব‌্যানা‌রে যৌথ আ‌য়োজ‌নে নি‌র্মিত হ‌চ্ছে এই চল‌চিত্রটি। বাংলা‌দেশ -জাপান ও দুবাই তিন দেশীয় বি‌নি‌য়ো‌গে নি‌র্মিত এছ‌বি‌তে ভার‌তে ম‌্যাগা স্টার অ‌মিতাভ বচ্চন, জয়া বচ্চন, সঞ্জয় দত্ত ও অজয় দেবগন, জাপা‌নের সিরো‌হি‌তো, আ‌কি‌রো জি‌রো, ইসামু সু‌বি‌নিয়া, দুবাই এর র‌ফিক মাহাতাব ,‌ফি‌রোজ ম‌হিন্দ্র, মু‌জিব ভাই ও বাংলা‌দে‌শের আ‌রিফ হো‌সেন , ব‌বিতা, শমি কায়সার, অপু বিশ্বাস অভিনয় কর‌বেন ব‌লে প্রথ‌মিক ভা‌বে জানা‌নো হ‌য়ে‌ছে। বিচারপতি রাধা বি‌নোদ পাল হ‌লেন কু‌ষ্টিয়া জেলার কৃ‌র্তি সন্তান। যি‌নি একজন বাঙালি আইনবিদ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দূরপ্রাচ্যে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারার্থে স্থাপিত আন্তর্জাতিক সামরিক আদালতের বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। “জাপান-বন্ধু ভারতীয়”খ‌্যা‌তি ছ‌ড়ি‌য়ে প‌রে‌ছিল তাঁর ‌বাংলা‌দেশের জ‌ন্মের আ‌গে। বর্তমা‌নে ” জাপান – বন্ধু বাংলা‌দেশ” বলে খ্যাতি রয়েছে তাঁর। জাপানের ইতিহাসে ‌বিচারপ‌তি ডক্টর রাধা বিনোদের নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। তাঁর সম্মানে জাপা‌নের
টোকিওর ইয়াসুকুনি শ্রাইনে, নি‌র্মিত হ‌য়ে‌ছে রাধাবিনোদ পাল স্মৃতিস্তম্ভ।
তি‌নি জন্ম গ্রহন ক‌রেন ২৭ জানুয়ারি ১৮৮৬
কু‌ষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপ‌জেলার তারাগুনিয়া গ্রা‌মে। যে এলাকার অবস্থান বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে বাংলাদেশ)।
৮০ বছর বয়‌সে তি‌নি ১০ জানুয়ারি ১৯৬৭ সা‌লে ভার‌তের প‌শ্চিমব‌ঙ্গের কলকাতায় মৃত্যু বরণ ক‌রেন।
পেশায় ছি‌লেন আইনবিদ। তার
ভাষা মাতৃভাষা বাংলা।
ব্রিটিশ ভারতীয় নাগরিক ছি‌লেন তি‌নি। বৃ‌টিশ (১৮৮৬-১৯৪৭)
ভারতীয় (১৯৪৭-১৯৬৭)

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : প্রেসিডেন্সি কলেজ
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ডঃ রাধাবিনোদ পাল (২৭ জানুয়ারি ১৮৮৬ – ১০ জানুয়ারি ১৯৬৭) একজন বাঙালি আইনবিদ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দূরপ্রাচ্যে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারার্থে স্থাপিত আন্তর্জাতিক সামরিক আদালতের বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। “জাপান-বন্ধু ভারতীয়” বলে খ্যাতি রয়েছে তার। জাপানের ইতিহাসে রাধা বিনোদের নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।একজন বাঙালি আইনবিদ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দূরপ্রাচ্যে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারার্থে স্থাপিত আন্তর্জাতিক সামরিক আদালতের বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। “জাপান-বন্ধু ভারতীয়” বলে সে সম‌য়ে খ্যাতি ছ‌ড়ি‌য়ে পরে তার। জাপানের ইতিহাসে রাধা বিনোদের নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। জাপানের টোকিও শহরে তার নামে জাদুঘর, সড়ক ও স্ট্যাচু রয়েছে। জাপান বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি রিসার্চ সেন্টার রয়েছে। তিনি আইন সম্পর্কিত বহু গ্রন্থের রচয়িতা।
শিক্ষাজীবন
তার প্রাথমিক জীবন চরম দারিদ্রের মধ্যে অতিবাহিত হয়েছে। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রামের গোলাম রহমান পণ্ডিতের কাছে তার শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। কুষ্টিয়া হাইস্কুলে তিনি মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।
১৯২০ সালে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে আইনে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯১৯-২০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে তার কর্মজীবনের শুরু। ১৯২৫-১৯৩০ মেয়াদে এবং পরবর্তীতে ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে অধ্যাপনা করেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় যোগদান করেন। ১৯৪১-৪৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৪-৪৬ মেয়াদে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গুগল উই‌কি‌পি‌ডিয়া স্রত্রে এ তথ‌্য পাওয়া যায়।

কৃতিত্ব :
প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব রাধা বিনোদ পালের সুখ্যাতি শুধু পাকিস্তান-ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৬-৪৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত জাপানের রাজধানী টোকিও মহানগরে জাপানকে নানচিং গণহত্যা সহ দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধে চীনাদের উপর জাপানি সেনাবাহিনীর দীর্ঘ কয়েক দশকের নৃশংসতার অভিযোগে যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করে যে বিশেষ আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার হয়, তিনি ছিলেন সেই আদালতের অন্যতম বিচারপতি। তিনি তার ৮০০ পৃষ্ঠার বিচক্ষণ রায় দিয়ে জাপানকে “যুদ্ধাপরাধ”-এর অভিযোগ থেকে মুক্ত করেন। এ রায় বিশ্বনন্দিত ঐতিহাসিক রায়ের মর্যাদা লাভ করে। তার এ রায় জাপানকে সহিংসতার দীর্ঘ পরম্পরা ত্যাগ করে সভ্য ও উন্নত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মনোনিবেশে প্রধানতম সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।
সম্মান :
তিনি জাপান-বন্ধু ভারতীয় বলে খ্যাতি অর্জন করেনএল গুগল উই‌কি‌পি‌ডিয়া সু‌ত্রে জানা যায়। ১৯৬৬ সালে রাধাবিনোদ পালকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করা হয় নিহোন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে। জাপান সম্রাট হিরোহিতোর কাছ থেকে জাপানের সর্বোচ্চ সম্মানীয় পদক ‘কোক্কা কুনশোও’ গ্রহণ করেছিলেন। জাপানের রাজধানী টোকিও তে তার নামে রাস্তা রয়েছে। কিয়োটো শহরে তার নামে রয়েছে জাদুঘর, রাস্তার নামকরণ ও স্ট্যাচু [ উই‌কি‌পি‌ডিয়া সুত্র১]। টোকিও ট্রায়ালরনা‌মে ভার‌তে এক‌টি টেলিসিরিয়াল নি‌র্মিত হ‌য়ে‌ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের ট্রায়াল নিয়ে নির্মিত এই টে‌লি‌সি‌রিয়া‌লে তার চরিত্রে অভিনয় করেন ভারতীয় অভিনেতা ইরফান খান।
মৃত্যু :
তিনি ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই জানুয়ারি কলকাতায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।[ উই‌কি‌পি‌ডিয়া সুত্র ৩]
এই বিচারপ‌তি ডক্টর রাথা বি‌নোদ পা‌লের ওপর নি‌র্মিত চল‌চিত্রটি স্ক্রীপ্ট লিখ‌ছেন ভারত, বাংলা‌দেশ ও জাপানের ‌তিন খ্যাতিমান লেখক নিহাল রামু‌জি , ইতা‌রিও ইসানু ও অ‌মিতাভ কা

error: Content is protected !!