রবিবার্তা ডেস্ক : তৃতীয় ধাপের ৬৪টি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

শনিবার বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্লাহ, ড. আবদুুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে দলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

তৃতীয় ধাপের ৬৪ পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গত রোববার থেকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে ফরম বিতরণ শুরু করে আওয়ামী লীগ। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলে ফরম বিক্রি ও জমা গ্রহণ কার্যক্রম। শেষ সময় পর্যন্ত মোট ৩৫২ জন মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেন। তাদের মধ্য থেকে তৃতীয় ধাপের ৬৪ পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ।

৬৪ পৌরসভায় নৌকার প্রার্থী যারা: রংপুর বিভাগের চারটি পৌরসভার মধ্যে দিনাজপুরের হাকিমপুরে এনএএম জামিল হোসেন চলন্ত, নীলফামারীর জলঢাকায় মো. মোহসীন, কুড়িগ্রামের উলিপুর মামুন সরকার ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম।

রাজশাহী বিভাগের ১২টি পৌরসভার মধ্যে বগুড়ার ধুনটে টিআইএম নুরুন্নবী, শিবগঞ্জে তৌহিদুর রহমান মানিক, গাবতলীতে মোমিনুল হক (শিলু), কাহালুতে হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, নন্দীগ্রামে আনিছুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের রহনপুরে গোলাম রাব্বানী বিশ্বাস, নওগাঁর ধামইরহাটে আমিনুর রহমান, নওগাঁ সদরে নির্মল কৃষ্ণ সাহা, রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালায় আমির হোসেন (আমিন), মোহনপুরের কেশরহাটে শহিদুজ্জামান, নাটোরের সিংড়ায় জান্নাতুল ফেরদৌস ও পাবনা সদরে আলী মুর্তজা বিশ্বাস।

খুলনা বিভাগের নয়টি পৌরসভার মধ্যে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দর্শনায় মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডে ফারুক হোসেন, কোটচাঁদপুরে শাহাজান আলী, যশোরের মনিরামপুরে কাজী মাহমুদুল হাসান, নড়াইলের নড়াইল সদরে আঞ্জুমান আরা, কালিয়ায় ওয়াহিদুজ্জামান (হীরা), বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এসএম মনিরুল হক, খুলনার পাইকগাছায় সেলিম জাহাঙ্গীর, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় মনিরুজ্জামান।

বরিশাল বিভাগের আটটি পৌরসভার মধ্যে বরগুনা সদরে কামরুল আহসান (মহারাজ), পাথরঘাটায় আনোয়ার হোসেন আকন, ভোলার বোরহানউদ্দিনে রফিকুল ইসলাম, দৌলতখানে জাকির হোসেন, বরিশালের গৌরনদীতে হারিছুর রহমান, মেহেন্দিগঞ্জে কামাল উদ্দিন খান, ঝালকাঠির নলছিটিতে আ. ওয়াহেদ খাঁন, পিরোজপুরের নেছারাবাদের স্বরূপকাঠীতে গোলাম কবির।

ঢাকা বিভাগের ১২টি পৌরসভার মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে এসএম সিরাজুল হক, মির্জাপুরে সালমা আক্তার, ভুঞাপুরে মাসুদুল হক মাসুদ, সখিপুরে আবু হানিফ আজাদ, মধুপুরে সিদ্দিক হোসেন খান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শওকত উসমান, মুন্সিগঞ্জ সদরে মোহাম্মদ ফয়সাল, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল, রাজবাড়ীর পাংশায় ওয়াজেদ আলী, শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আবুল কালাম আজাদ, ভেদরগঞ্জে আবদুল মান্নান হাওলাদার ও জাজিরায় অধ্যাপক আবদুল হক কবিরাজ।

ময়মনসিংহ বিভাগের আটটি পৌরসভার মধ্যে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মনির উদ্দিন, শেরপুরের নকলায় হাফিজুর রহমান, নালিতাবাড়ীতে আবু বক্কর সিদ্দিক, ময়মনসিংহের ভালুকায় একেএম মেজবাহ উদ্দিন, ত্রিশালে নবী নেওয়াজ সরকার, গৌরীপুরে শফিকুল ইসলাম হবি, ঈশ্বরগঞ্জে হাবিবুর রহমান ও নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আলা উদ্দিন। সিলেট বিভাগে তিনটি পৌরসভার মধ্যে সিলেটের গোলাপগঞ্জে রুহেল আহমদ, জকিগঞ্জে খলিল উদ্দিন, মৌলভীবাজার সদরে ফজলুর রহমান। চট্টগ্রাম বিভাগের আটটি পৌরসভার মধ্যে কুমিল্লার লাকসামে আবুল খায়ের, বরুড়ায় বক্তার হোসেন, চৌদ্দগ্রামে মীর হোসেন মীরু, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মাহবুব-উল আলম, ফেনী সদরে নজরুল ইসলাম স্বপন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুনীতে আক্তার হোসেন, হাতিয়ায় কেএম ওবায়েদ উল্যাহ, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আবুল খায়ের পাটওয়ারী।

তৃতীয় ধাপের ৬৪টি পৌরসভার নির্বাচন ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এসব পৌরসভায় মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ৩১ ডিসেম্বর। নির্বাচন হবে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। প্রত্যেকটি কেন্দ্রে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট হবে। মনোনয়নপত্র বাছাই আগামী বছরের ৩ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার আগামী ১০ জানুয়ারি।

উল্লেখ্য, ইসির তফসিল অনুযায়ী- প্রথম ধাপের নির্বাচন ২৮ ডিসেম্বর। এ সময় ২৫টি পৌরসভার নির্বাচন হবে। দ্বিতীয় ধাপে ৬১ পৌরসভায় ভোট হবে ১৬ জানুয়ারি। ৬১ পৌরসভার মধ্যে ইভিএমে ২৯টি পৌরসভায় ও ব্যালটের মাধ্যমে ৩২টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

error: Content is protected !!