মোক্তার হোসেন, পাংশা (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি ॥ আগামী মে-জুনে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনমত গঠনে গণসংযোগে নেমেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মাঠ গোছাতে হাবাসপুর ও বাহাদুরপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশী সরব হয়েছেন। কেউ কেউ ফেসবুকে ছবি দিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এসব নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও আলোচনা সমালোচনা চলছে। আর আলোচনা সমালোচনার মধ্যে নতুন মুখের প্রত্যাশাও জেগে উঠছে। হাবাসপুর ও বাহাদুরপুর ইউপিতে অনেক গুণীজনের জন্ম। এলাকার সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়েও অনেকে ভাবেন। এ দুটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা ও আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান ইউপি চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে রয়েছেন। আবার বর্তমান চেয়ারম্যানবৃন্দও জনমত গঠনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বাহাদুরপুর ইউপি ঃ বাহাদুরপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা মাঠে রয়েছেন। এদের মধ্যে অন্যতম হলেন পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মুন্সী হাসানুল ইসলাম এবং বাহাদুরপুর ইউপি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম। মুন্সী হাসানুল ইসলাম (মহন মুন্সী) বাহাদুরপুর ইউপির কৃষ্ণপুর গ্রামের সন্তান। আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা হিসেবে এলাকায় তার সুনাম ও সুপরিচিতি আছে। তিনি বাহাদুরপুর তরুন সংঘ ও পাঠাগারের আজীবন সদস্য, বাহাদুরপুর শহীদ খবিরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি। সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত তিনি। এছাড়া বাহাদুরপুর ইউপিতে আওয়ামী লীগের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম একজন ব্যবসায়ী। বাহাদুরপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি তিনি। এছাড়া বাহাদুরপুর শহীদ খবিরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য, তারাপুর দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং তারাপুর গোরস্থান ও ঈদগাহ কমিটির কোষাধ্যক্ষ তিনি। বাহাদুরপুর ইউপির তারাপুর গ্রামে তার বাড়ী। আওয়ামী লীগ রাজনীতির পাশাপাশি এলাকায় শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বিকশিত করার ক্ষেত্রে তিনি নিবেদিত।

হাবাসপুর ইউপি ঃ হাবাসপুর ইউনিয়ন পাংশা উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশায় এলাকায় সরব হয়েছেন। তবে তরুনদের মধ্যে রয়েছেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী আনোয়ার হোসেন এবং উদীয়মান নেতা গোলাম মোস্তফা। সিঙ্গাপুর প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের বাড়ী হাবাসপুর ইউপির চরঝিকড়ী মধ্যপাড়া গ্রামে। প্রবাসী সিঙ্গাপুর শাখার রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক তিনি। ২০০৭ সালে সিঙ্গাপুরে আওয়ামী লীগের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটি গঠন করা হয়। দেশে-বিদেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকান্ডের পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি নিজ এলাকায় শিক্ষা ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বিকশিত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা রয়েছে। তিনি পাংশার অসাম্প্রদায়িক চেতনার সাংস্কৃতিক সংগঠন নাট্যালোকের আজীবন সদস্য। চরঝিকড়ী মধ্যপাড়া নিজ গ্রামে দ্বিতল বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করেছেন তিনি। এলাকায় দলীয় ও সৃজনশীল নানা কার্যক্রমে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। আসন্ন হাবাসপুর ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে খুব শীঘ্রই দেশে ফিরবেন বলে জানান সিঙ্গাপুর প্রবাসী আনোয়ার হোসেন।

বুধবার ৩ মার্চ মোবাইল ফোনে আলাপকালে আনোয়ার হোসেন জানান, আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে আমি খুব শীঘ্রই দেশে ফিরবো। দেশে-বিদেশে আমি আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে জড়িত। রাজবাড়ী-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুল হাকিমের উপস্থিতিতে ২০০৭ সালে প্রবাসী সিঙ্গাপুর শাখা রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ব্যক্তিগত অর্থায়নে এলাকায় শিক্ষা, ক্রীড়া ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড বিকশিত করতে পৃষ্ঠপোষকতা করছি। সাধারণ মানুষের সাথে মিশে তাদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করছেন। সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে হাবাসপুর ইউনিয়নকে আধুনিকায়ন করতে চাই। সেই সাথে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত হাবাসপুর ইউনিয়ন গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। অপর দিকে হাবাসপুর ইউপির চরঝিকড়ী গ্রামের শিক্ষিত তরুণ সমাজসেবী গোলাম মোস্তফা জানান, তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক হাবাসপুর ইউপি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। যুবসমাজকে ক্রীড়া ও পাঠাগারমুখী করা এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত হাবাসপুর ইউনিয়ন গঠনে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। সেই সাথে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তৃণমূলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারকরণে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক গোলাম মোস্তফা।

error: Content is protected !!