ঢাকা অফিস : করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়তে থাকায় আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। ৯ দিনের ঢিলেঢালা বিধিনিষেধের পর আজ সকাল থেকে সারা দেশে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন। জরুরি প্রয়োজনে ‘মুভমেন্ট পাস’ ছাড়া বাইরে বের হয়ে মানুষজনকে পড়তে হয়েছে পুলিশের জেরার মুখে। মোড়ে মোড়ে রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে রাজধানীর অনেক সড়ক ও অলিগলি। কড়া নজরদারি করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এদিকে সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত অফিস, বিপনিবিতান, শপিং মল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের গণপরিবহনও।
দূরপাল্লার যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তবে শুধু খোলা রয়েছে জরুরি সেবাদানকারী পরিবহন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকিং সেবা ও পোশাকশিল্প কারখানা। কিন্তু সকালে গণপরিবহন না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন গার্মেন্ট শ্রমিকরা। কারখানা কর্তৃপক্ষের নিজস্ব পরিবহন না থাকায় এই দুর্ভোগে পড়েন তারা। দীর্ঘপথ হেঁটে কারখানায় যেতে হচ্ছে অনেক শ্রমিকদের। নিজস্ব পরিবহন না থাকায় একইভাবে ভোগান্তিতে পড়েন জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। অনেককে পণ্য পরিবহনের ভ্যান কিংবা পিকআপে করে কর্মস্থলে যেতে দেখা যায়।

ওদিকে নগরীতে ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু দোকানপাট ছাড়া সবধরনের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে পাড়া মহল্লার অলিগলির মুখে কর্মহীন মানুষকে বসে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। পুলিশের টহল টিমের গাড়ি আসলে থাকলে তারা পালিয়ে যাচ্ছেন।
সকালে খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় দেখা গেছে, পুলিশের তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। তাদের দায়িত্বপালন রত অবস্থায় রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন যোগে মানুষ চলাচল করছেন। তবে এসময় অকারণে বাসা থেকে বের না হতে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিংও করতে দেখা গেছে।

রাস্তায় নেই কোনও গাড়ি। পুলিশের কড়াকড়িতে রিকশাও চলাচল করছে সীমিত সংখ্যক।
মেরুল-বাড্ডা ইউটার্ন মোড়ের আগে রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। সড়কে বের হওয়ার কারণ জানতে চাইতে দেখা গেছে পুলিশকে। তবে অনেকেই খোঁড়া যুক্তি দিয়ে পুলিশের জেরা থেকে রেহায় পাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে রাজারবাগ, ফকিরাপুল, গুলিস্তান, পল্টন, কাকরাইল, শাহবাগ, মগবাজার, দৈনিক বাংলা, কাওরানবাজার এলাকায়। রাজধানীর প্রায় সব রাস্তাই অনেকটা ফাঁকা।

error: Content is protected !!