ইবি প্রতিনিধি :
হল বন্ধ রেখে ও স্বাস্থবিধি মেনে অনার্স-মাস্টার্সসহ বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামী ৪ জানুয়ারি শীতকালীন ছুটি শেষে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে এসব পরীক্ষা। তবে আবাসিক ও পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে পরীক্ষায় অংশ নিতে নারাজ শিক্ষার্থীরা।

গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে তারা। উপরোক্ত সুবিধাগুলো নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল সংগঠনগুলো।

শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে সংগঠনগুলোর দফতর সম্পাদক স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক প্রেস বার্তায় এসব দাবি জানায় তারা।

যৌথ এক সংবাদ বিবৃতিতে ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদের সভাপতি নূরুন্নবী সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক জি. কে. সাদিক বলেন, আবাসিক হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নেই। তাছাড়া কেবল পরীক্ষাকালীন মেস বা বাসা ভাড়া পাওয়া সহজ হবে না। সবার পক্ষে শহর থেকে এসে পরীক্ষা দেয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। এছাড়াও যারা দূর থেকে এসে পরীক্ষা দিবে তাদের জন্য সাময়িক থাকার ব্যবস্থায় নানা জটিলতা রয়েছে, বিশেষ করে মেয়েদের। অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তার সমস্যা হতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হলগুলো খুলে দেন। যাতে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।

এদিকে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র মৈত্রী।

এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রমৈত্রী ইবি শাখার সভাপতি আব্দুর রউফ এবং সাধারণ সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ পাপ্পু বলেন, আবাসিক সুবিধা ছাড়া পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে কেন্দ্রে উপস্থিত হবে। এতে করোনা ভাইরাসের বিস্তার আরো ঘটবে। কোনো শিক্ষার্থী করোনায় আক্রান্ত হলে এর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়াতে পারে না। এছাড়া প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলেও অনলাইনে সম্পন্ন করা কোর্সসমূহের রিভিশন না করে চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান করছি।

এছাড়া আবাসিক হল খুলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে নয় দফা প্রস্তাবনাও দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। এদিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক সংবাদ বিবৃতি দেয়া না হলেও নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছেন। শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ফয়সাল সিদ্দীকি আরাফাত বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি, তাদের সবার দাবি আবাসিক ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করে পরীক্ষা নেয়া হোক। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম বলেন, এ ব্যাপারে আমিও ব্যক্তিগতভাবে পজিটিভ। তবে একাডেমিক কাউন্সিলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবো, একার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব না। তবে আমরা সরকারের সবুজ সংকেতের দিকে চেয়ে আছি। ইউজিসির সঙ্গেও আমি এ ব্যাপারে কথা বলব।

error: Content is protected !!