শাখাওয়াত হোসেন জসিম। লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের বাসিন্দা তিনি। সারা জীবন জাসদ করলেও বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা। শুধু তাই নয়, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির পদেও বসে আছেন তিনি। আর ওই পদ ব্যবহার করে কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এমনকি সম্প্রতি মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে জমি আছে, ঘর নেই -এমন কিছু ব্যক্তিকে বিনা খরচে ঘর করে দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগের পাহাড় থাকার পরও তিনি আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তদবির শুরু করেছেন তিনি। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মনে দেখা দিচ্ছে নানা প্রশ্ন। তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা নেমে আসবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, শাখাওয়াত হোসেন জসিম ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়ন জাসদের সভাপতি ছিলেন। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত উপজেলা জাসদের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে হঠাৎ করে ২০২০ সালে তাকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর থেকে তৃণমূল আওয়ামী লীগের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে সরকারি ঘরের তালিকা করার নামে চরবাদাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন জসিম ‘জমি আছে, ঘর নেই’-এমন ৭১৩ দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে এক থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। সম্প্রতি ইউপি সদস্য ও তার অনুসারীদের মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যান অন্তত ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান বলেছেন, মেম্বাররা ইন্টারনেটের খরচের জন্য সামান্য কিছু খরচাপাতি নিয়েছেন। তবে ইউএনও বলছেন, অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে জমি আছে, ঘর নেই -এমন কিছু ব্যক্তিকে বিনা খরচে ঘর করে দেয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। এজন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে নামের তালিকা চাওয়া হয়। এতে চরবাদাম ইউপি চেয়ারম্যান জসিম অতিউৎসাহী হয়ে পরিষদের সদস্য ও অনুসারীদের দিয়ে ইউনিয়নব্যাপী তালিকা করান। পরে তা উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করা হয়। এতে ৭১৩ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তালিকায় নাম উঠাতে প্রত্যেকের কাছ থেকে এক হাজার থেকে ১০ হাজার করে টাকা নেয়া হয়।

সূত্র আরো জানায়, ঘরের তালিকা করার নামে ইউপি চেয়ারম্যান অন্তত ১৫ লাখ টাকা বাণিজ্য করেছেন। ওই ইউনিয়নের চর কলাকোপা, কারামতিয়া ও চরসীতা গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

পূর্ব চরসীতা গ্রামের রাশেদা বেগম বলেন, তিন মাস আগে আমার ঘরের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়া হয়। কিন্তু এখনো ঘর করে দেয়ার কোনো খবর নেই। কারো কাছে এ বিষয়ে কথা না বলার জন্য বলা হয়েছে। কয়েকদিন আগে মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, আমি যোগ্য নয়। এজন্য ঘর দেয়া হবে না। তবে আগে আমার টাকা নিল কেন? এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্কুল শিক্ষক বলেন, চরবাদাম ইউনিয়নের মানুষ দরিদ্র। তাদের বেশিরভাগই মেঘনা নদী ভাঙনের শিকার। অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কিন্তু চেয়ারম্যান খামখেয়ালি মতো একটি তালিকা করে অন্তত ১৫-২০ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। টাকার কথা জানাজানি হলে ঘর দেয়া হবে না বলে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শাখাওয়াত হোসেন জসিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিবার্তাকে বলেন, আপনে সরেজমিন এসে রিপোর্ট করেন।

তবে বুধবার রাতে লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিবার্তাকে বলেন, উনার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

error: Content is protected !!