রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নে গোলযোগের ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে কসবামাজাইল বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে কসবামাজাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল কবির, কসবামাজাইল ইউপি আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযাদ্ধা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, কসবামাজাইল ইউপি আওয়ামী লীগের নেতা ও আসন্ন কসবামাজাইল ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম বিশ্বাস ও কসবামাজাইল ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার জয়নাল আবেদীন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। এ সময় কসবামাজাইল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল কবির বলেন, কসবামাজাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সামসুদ্দিন মন্ডল শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ এবং সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান পিল্টু জোয়ার্দ্দার একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, কসবামাজাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কোনো অফিস নেই। জাতীয় কর্মসূচি আমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি বিল্ডিং-এ পালন করি। আমাদের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান কসবামাজাইল নতুন বাজারে নিজের ব্যক্তিগত একটি অফিস করেছেন। ওই অফিসটি মূলত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নূর মোহাম্মাদ সুলতান মিয়ার ঘর। সবসময় বিএনপির লোকজন নিয়ে ওই অফিসে আলাপ-আলোচনা করেন চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বিএনপির লোকজনের সাথে ওঠাবসা করার কারণে আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার কাছ থেকে সরে এসেছি। শফিকুল কবির বলেন, আসন্ন কসবামাজাইল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আমরা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে রাকিবুল বিশ্বাসের পক্ষে কাজ করছি। সে কারণে চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান আমাদের উপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান তার দলবল নিয়ে কসবামাজাইল নতুন বাজারে অবস্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী রাকিবুল বিশ্বাসের ব্যক্তিগত অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেন এবং কর্মী সমর্থকদের মারপিট করে আহত করেন। এছাড়া রাকিবুল ইসলামের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও গুলিবর্ষণ করেন। এরপর তিনি ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য তার নিজের ব্যক্তিগত অফিস এবং অফিসে থাকা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর করে আমাদের উপর দায় চাপান। শুধু তাই নয় নিজের ব্যক্তিগত অফিসকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস বলে দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেন চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান। আমরা তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং মিথ্যা সংবাদ প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

কসবামাজাইল ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার জয়নুল আবেদীন বলেন, আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। বাপ-দাদার আমল থেকে আমরা আওয়ামী লীগ করি। আমাদের জন্মদাতা পিতার পরেই আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা করি। জাতির জনকের আদর্শকে বুকে লালন করি। গর্ভধারিনী মায়ের পরেই আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রদ্ধা করি।

কসবামাজাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস বলেন, আমি দীর্ঘ ১৬ বছর কসবামাজাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলাম। আমি জানি কসবামাজাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোনো অফিস নেই। আমরা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামানের মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

আওয়ামী লীগ নেতা ও আসন্ন কসবামাজাইল ইউপির নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমার বড়ভাই মরহুম জিয়াউর রহমান কসবামাজাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জন্মলগ্ন থেকে একটানা ২২ বছর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আমরা আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করি। কিন্তু আমাদের ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান বিএনপির লোকজনের সাথে নিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমার পক্ষে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খান গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে আমার অফিস ভাংচুর করাসহ নিরীহ কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়েছে। কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে-বাড়িতে গিয়ে ভাংচুর চালানো হয়েছে। গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। উল্টো আমাদের উপরেই দায় চাপাচ্ছেন তিনি।

এ ব্যাপারে কসবামাজাইল ইউপির চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমার প্রতিপক্ষ সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী রাকিবুল ইসলামের ভাই ও তার সমর্থিত কিছু লোকজন আওয়ামী লীগের অফিসে ঢুকে কর্মীদের মারধর, অফিস ভাংচুর ও অফিসে থাকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.