নিজস্ব প্রতিবেদক : কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ মানবাধিকর নাট্য পরিষদ কুষ্টিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শেখ মফিজুর রহমান এবং অন্যতম নাট্য সংগঠক মিন্টু দত্ত স্মরণে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে শহরের স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা চত্ত্বরে বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদ কুষ্টিয়ার আয়োজনে এম এ কাইয়ুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরন সভায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে অকাল প্রয়াত শেখ মফিজুর রহমান ও মিন্টু দত্ত স্মরণে তাদের জীবদ্দশায় বর্ণাঢ্য কর্মময় স্মৃতি স্মরণ করেন।

এসময় প্রয়াত দুই সংগঠকের জীবনী তুলে ধরে বক্তারা বলেন, মিন্টু দত্ত তার পিতা স্বর্গীয় বৈদ্যনাথ দত্ত ছিলেন একজন গুণী ফুটবলার সেই সূত্র ধরে তিনিও বাবার পথেই হেটে ছিলেন। প্রথম পর্যায়ে খেলোয়ার থাকলেও পরবর্তিতে তিনি ফুটবলের রেফারী ও কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ভারত্তোলন এর জাতীয় পর্যায়ের কোচ, হ্যান্ডবলে জেলা ও জাতীয় দলের খেলোয়ার এবং রেফারী ছিলেন। তিনি কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্স কাবাডি টিমের একজন খেলোয়ারও ছিলেন। তার রেফারী জীবনে ফুটবলের মাঠে ৩০০০ এর ও বেশি খেলা পরিচালনা করেছেন কৃতিত্বের সাথে। ১৯৯৩ সালে শ্রেষ্ঠ ফুটবল রেফারীর সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। একজন গুনী খেলোয়ার ও রেফারীর পদচারণ শুধু ক্রিড়া ক্ষেত্রেই ছিল সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন একজন উদ্যেমী নাট্যকর্মী তিনি তার অভিনয় এর সূচনা হয় ১৯৮৫ সালে ১৯৯১ সালে ঢাকা শিল্পকলা একডেমীর মঞ্চে নাটক ‘একদল মানুষের গল্প’ তে অভিনয় করে পেয়েছিলেন শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার। তিনি ১৫০টির ও বেশি মঞ্চ ও পথনাটকে অভিনয় করেন। তিনি নাট্যদল অনন্যা-৭৯, পরিমল থিয়েটার এর হয়েও অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত নাটক দইওয়ালা, পোস্ট মাস্টার, মেহেরজান, ভূতের গদি উল্লেখযোগ্য। তিনি টেলিভিশনেও ৪০টি নাটকে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও তিনি গৌতম ঘোষের কালবেলা, ফকরুল আরেফির খান পরিচালিত ভুবন মাঝি ও না মানুষ চলচিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদ কুষ্টিয়া জেলার একজন সক্রিয় নাট্যকর্মী। তিনি মানাপ কুষ্টিয়া পৌরসভা নাট্যদলের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। মানবাধিকার নাট্য পরিষদের অসংখ্য পথ নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন। একজন খেলোয়ার কিংবা অভিনেতা, তিনি ছিলেন সর্বক্ষেত্রে সক্রিয় একজন মানুষ। গত ৯ই এপ্রিল ২০২১ তারিখে সকল কৃতিত্ব আমাদের মাঝে রেখে ইহলোকের মায়ার বন্ধন ছিন্নকরে পরলোকে পথে পাড়ি দিয়েছেন।

অন্যদিকে পপুলার থিয়েটার ও মানবাধিকার নাট্য পরিষদ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শেখ মফিজুর রহমান মফিজ। মফিজ ছিলেন এক নিবেদিত প্রাণ সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ও মানবাধিকার কর্মী। তিনি ১৯৯৮সালে মুক্তি নারী ও শিশু উন্নয় সংস্থায় যোগদান এর মধ্যে দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। মফিজ সমাজ,নাটক, মানবাধিকার, নির্যাতন এর বিষয় নিয়ে সারাক্ষণ কাজ করতেন। মানবাধিকার নাট্য পরিষদের অসংখ্য নাটক তৈরি থেকে উপস্থাপনা পর্যন্ত নিরলস কাজ করতেন তিনি। তার কর্মজীবন হয়তো খুব ছোট কিন্তু তাঁর চিন্তা ভাবনা ছিল অনেক উদার ও বিশাল।সদাহাস্যজ্জল পরোপকারী মফিজ ছিল সকলের ভাল বন্ধু,শুভাকাঙ্কী, এবং ভালো একজন সহকর্মী। সদাহাস্যজ্জল পরোপকারী মফিজ দীর্ঘ ১৭ বছর রোগ ভোগের পর গত ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ তারিখে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নেন। হয়তো মফিজ স্বশরীরে নেই কিন্তু তার কাজের মাধ্যমে তিনি বেঁচে থাকবেন আমাদের সকলের হৃদয়ে।

সভায় বক্তব্য রাখেন, খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক, জেলা রেফারি আম্পায়ার সমিতি কুষ্টিয়া। সুনীল কুমার, নাট্যজন, কুষ্টিয়া। নজরুল ইসলাম খোকন, নন্দন থিয়েটার, কুষ্টিয়া। রবিউল ইসলাম ফটিক, সাধারণ সম্পাদক, মানবাধিকার নাট্য পরিষদ কুষ্টিয়া। রকিবুল ইসলাম কর্ণেল, সহ সভাপতি, মানবাধিকার নাট্য পরিষদ কুষ্টিয়া। সোহেল খন্দকার, কার্যকরী সদস্য, মানবাধিকার নাট্য পরিষদ কুষ্টিয়া। এবং মুস্তাফিজুর রহমান। প্রয়াত দুই সদস্যর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভাপতিত্ব করেন – এম এ কাইয়ুম, সভাপতি, মানবাধিকার নাট্য পরিষদ কেন্দ্রীয় পরিষদ, জায়েদুল হক মতিন, সহ সাধারণ সম্পাদক, সসম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট কুষ্টিয়া। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শেখ সাদি। স্মরণ সভা শেষে মানাপ কুষ্টিয়ার পরিবেশনায় নাটক ‘কিশোর গ্যাং’ প্রদর্শন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.