নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কুষ্টিয়ায় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের প্রতিবাদ ও সম্প্রীতি রক্ষার দাবিতে মানব বন্ধন সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা শাখার উদ্যোগে। শনিবার বেলা ১১টায় শহরের এনএস রোডস্থ বক চত্বরে পার্টির জেলার সভাপতি ফজলুল হক বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রিয় কমিটির পলিট ব্যুরোর সদস্য নুর আহমেদ বকুল। এছাড়া সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের জেলা সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধার নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় বক্তরা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আত্মত্যাগী সংগ্রামের মধ্যদিয়ে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে আবারও একদল হায়েনা-শকুনীর সাম্প্রদায়িক উস্কানীতে দেশব্যাপী যে প্রাণ সংহারী ধ্বংসাত্মক উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে তাদের চিহিœত করে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দেশবাসীর মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে সেতু গড়ে তুলতে সকলের প্রতি উদ্বাত্ত আহ্বান রাখেন নেতৃবৃন্দ।

মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে বিগত ৫০ বছরে শাসক শ্রেণির দলসমূহ ক্ষমতায় থাকা ও ক্ষমতায় যাওয়ার নির্লজ্জ প্রতিযোগিতায় সাম্প্রদায়িকতাকে মদদ দিয়ে এসেছে। জনগণ যে সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তিকে পরাজিত করেছিলো, তারাই মুখোশের আড়ালে শাসক শ্রেণির মধ্যে ঘাপটি মেরে থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে পুরনায় মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু বিবেচ্য নয়, সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও নিজ নিজ ধর্ম আচার-অনুষ্ঠান পালনের নিশ্চয়তা বিধান করা রাষ্ট্রের ও সরকারের দায়িত্ব। কিন্তু অতীতের সকল সরকারের মতোই বর্তমান সরকারও ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার ক্ষমতার রাজনীতিতে ভোট ব্যাংক হিসেবে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করছে। একদিকে তাদের উপর আক্রমণকারীদের বিচার না করে হামলায় উৎসাহিত করছে অন্যদিকে ঘটনা ঘটার পর হাজির হয়ে ত্রাতা সাজার চেষ্টা করছে।

গত ১৩ অক্টোবর ২০২১ থেকে কুমিল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দূর্গাপূজা মন্ডপে কোরান রাখাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, নাটোর, রংপুরসহ সারা দেশে অব্যাহত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ৪ জন এবং পুুলিশের গুলিতে হামলাকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছে। ৭০/৮০টি মন্দির, বেশ কিছু দোকানপাট, বাড়ীঘর ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় সবক্ষেত্রেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক নিরবতা, নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার প্রমাণ রয়েছে। যা সরকারের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছাড়া সম্ভব না।

নেতৃবৃন্দ শারদীয় পূজাকে কেন্দ্র করে সংগঠিত সাম্প্রদায়িক হামলা-সন্ত্রাসের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দায়ী করে তার ব্যর্থতার দায়ে অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি করেন।

নেতৃবৃন্দ গত এক সপ্তাহে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসন, জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপশি হামলাকারী ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার-বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.