মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের লক্ষীনারায়ণপুর ধলা গ্রামে দুই মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধােসংঘর্ষে ২ সহোদর নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাবেক মেম্বার ও বর্তমান মেম্বার প্রার্থী আতিয়ার রহমানকে প্রধান আসামি করে ৬৬ জনের নামে হত্যা মামলা করা হয়।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিহতদের ভাই বেল্টু হােসেন বাদি হয়ে গাংনী থানায় মামলা দায়ের করেন। গাংনী থানা সূত্র জানা যায় আগামী ১১ নভেম্বর কাথুলী ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে কাথুলী ইউনিয়নের (৭ নং ওয়ার্ড) লক্ষীনারায়ণপুর ধলা গ্রামের সদস্য (মেম্বর) পদের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন বর্তমান মেম্বর আজমাইন হােসেন টুটুল। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন ওই গ্রামের বাসিন্দা ও গাংনী উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান। ২০ বছর আগে গ্রাম্য দলাদলিতে সাবেক মেম্বর আতিয়ার রহমানের ভাই মাসাদ আলী নিহতের পর থেকে বর্তমান মেম্বর আজমাইন হোসেন টুটুলের সাথে তার দীর্ঘ বছরের বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরােধকে কেন্দ্র করে গত ৫ বছর আগে হত্যার শিকার হয় আজমাইন হােসেন টুটুল মেম্বরের নিকট আত্মীয় লুলু মিয়া। সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনের ভােট চাওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যার শিকার হয় আজমাইন হােসেন টুটুলের মামাতাে ভাই জাহারুল ইসলাম ও সাহাদুল ইসলাম।সরজমিনে জানা যায়, কাথুলী ইউপি নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পর থেকেই লক্ষিনারায়ণপুর ধলা গ্রামে মেম্বর প্রার্থী আজমাইন হােসেন টুটুল ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আতিয়ার রহমানের কর্মী-সমর্থকদের মধাে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। গত সোমবার সকালের দিকে আজমাইন হোসেন টুটুল গ্রামের একটি মহল্লায় ভোট চাইতে গেলে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আতিয়ার রহমান ও তার পক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা করেন। এক পর্যায়ে আতিয়ারের কর্মী-সমর্থকেরা টুটুলকে হামলা করতে থাকে। এসময় তার মামাতাে ভাই জাহারুল ও সাহাদুল টুটুলকে বাঁচাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের কোপের ঘটনাস্থলেই নিহত হন।আধা ঘণ্টাব্যাপি দু’পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধাে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দু’পক্ষের প্রায়ই অর্ধশতাধিক কর্মী-সমর্থক আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে আশঙ্কাজনক কয়েকজনকে কুষ্টিয়া ও ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে। এদিকে ঘটনার দিন পুলিশের অভিযানে সংঘর্ষের সাথে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ সদস্য।
ঘটনার পর লক্ষীনারায়ণপুর ধলা গ্রামটি পুরুষ শূন্য গ্রামে রুপান্তরিত হয়। তবে পুলিশ বলছে গ্রামের সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক ভাবে বসবাস করছে।
এদিকে, হত্যার ঘটনার পর থেকে আতিয়ারের পক্ষের লোকজন আত্মগোপনে রয়েছে। ফলে ভোটের মাঠে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সচেতনমহল।স্থানীয়দের প্রক্রিয়ায় জানা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আটক আশঙ্কায় ১১ নভেম্বর ভোট দিতেই পারছে না মেম্বর প্রার্থী আতিয়ার রহমানের পক্ষের লোকজন।
এদিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্ত পর সোমবার রাতেই জানাজা শেষে নিজ গ্রামে দাফন হয়েছে নিহত দুই সহােদর। একই পরিবারের দুইজনের নিহতের ঘটনায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধাে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে সংঘর্ষের পর থেকে গ্রামে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কেন্দ্র করে ও গ্রামের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরার সুবিধার্থে ধলা পুলিশ ক্যাম্পের একটিদল সার্বক্ষণিক প্রহরায় রয়েছে।কাথুলী ইউপি নির্বাচন তথা লক্ষীনারায়ণপুর ধলা গ্রামের ভােট কেন্দ্রে যাতে সকল ভােটাররা নির্বিগ্নে পছন্দের প্রার্থীকে তাদের ভােটাধিকার প্রয়ােগ করতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.