মোংলা প্রতিনিধি : মোংলার দ্বিগরাজের কোস্টগার্ড মোংলা সদর দপ্তর সংলগ্ন এলাকায় এক খন্ড জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল সজল দাশের পরিবার ও আব্বাস জমাদ্দার পরিবারের সাথে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার শালিশ বৈঠকও হয়েছে। কিন্ত বিষয়টি মিমাংশা যোগ্য না হওয়ায় উভয় পক্ষের আদালতে মামলাও চলছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। গত শনিবার ১৬ এপ্রিল ভোররাতে এ জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এসময় সজল দাশের মা আওয়ালীগ নেত্রীকে মারধর করার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনা নিয়ে মোংলা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। তবে প্রতিপক্ষ আব্বাস জমাদ্দারের দাবী, আদালতে রায় পেয়েও ক্রয়কৃত জমিতে সজল দাশ ও তার লোকজনের কারণে দখলে যেতে পারছেনা তারা। গোপনে ইটবালি দিয়ে জমি দখলে নেয়ার চেষ্টাকালে প্রতিবাদ করায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মামলার বিবরণ সুত্র ও পক্ষদ্বয় জানায়, মোংলা উপজেলার বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের দিগরাজ এলাকার বাসিন্দা আব্বাস জমাদ্দার ও ইদ্রিস জমাদ্দারের সাথে সজল দাস পরিবারের জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ ছিল। এনিয়ে উভয় পক্ষের আদালতে মামলাও চলছে। তবে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার রাতে বুড়িডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা বিডিআর রোডে তাদের দখলীয় জমি দখলের চেষ্টা করে আব্বাস জমাদ্দারসহ তার লোকজন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এসময় বাঁধা দিলে হত্যার উদ্দোশ্যে বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সুজতা দাস, তার ছেলে সজল দাস ও সবুজ দাসকে মারপিট করে আব্বাস জমাদ্দারের লোকজন বলে দাবী তাদের। হামলাকারীরা এসময় প্রায় কয়েক লাখ টাকার বিল্ডিং নির্মাণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় আব্বাস জমাদ্দারের লোকজন বলে দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করে বাদী সবুজ দাস। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে ক্ষোভ ও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
প্রতিপক্ষ আব্বাস জমাদ্দার বলেন, আমাদের ক্রয়কৃত জমি সজল দাস ও সবুজ দাসসহ তাদের লোকজন জোর পুর্বক দখল করে রাখে। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলেও সে মামলায় তাদের পক্ষে রায় দেয় আদালত। কিন্ত এ রায়ের খবর পেয়ে সজল দাস ও সবুজ দাসসহ তাদের লোকজন নিয়ে রাতের অন্ধকারে ইটবালি দিয়ে বিরোধপুর্ন ওই জমি স্থায়ী স্থাপনা তৈরী করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। এ খবর পেয়ে আব্বাস জমাদ্দার বাঁধা প্রদান করে এবং তাদের ক্রয়কৃত জমি দখলে রাখার চেষ্টা করে। দুই পক্ষ বাধার সৃষ্টি করলে এতে উভয় পক্ষের মধ্যে বাক বিতান্ডা হয় কিন্ত এ নিয়ে মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি।
আওয়ামীলীগ নেত্রী সুজতা দাস বলেন, আব্বাস জমাদ্দার ও ইদ্রিস জমাদ্দারের সাথে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধ ছিল। এনিয়ে আদালতে মামলাও চলছে, যার রায় তাদের পক্ষে। তবে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত শনিবার দ্বিগরাজের বিডিআর রোডে তাদের দখলীয় জমি আব্বাস জমাদ্দার ঘর বাড়ী নির্মান করে দখলের চেষ্টা করে। এসময় বাধা দিলে হত্যার উদ্দেশ্যে আমাকেসহ আমার ছেলে সজল দাস ও সবুজ দাসকে বেধরক মারপিট করে। হামলাকারীরা ওই জমিতে ভবন তৈরীর করার জন্য আনা কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে দাবী করেন হামলার শিকার হওয়া সুজাতা দাশ। এদিকে এঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে প্রায় ৭২ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও আসামিরা এখন গ্রেফতার না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন এ আওয়ামী নেত্রী।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম বলেন, দ্বিগরাজ এলাকায় জমি নিয়ে দন্ধের ঘটনায় মামলা হয়েছে। জমি দখল বা অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে জমিটুকু সর্বক্ষনিক পুলিশের নজরদাড়িতে রয়েছে এবং আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলেও জানায় থানার এ কর্মকর্তা। ###

Leave a Reply

Your email address will not be published.