নিজস্ব প্রতিবেদক : কুষ্টিয়ায় থেমে নেই মাদক ব্যবসা। হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা,হেরোইন, ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ নানা ধরনের মাদক। জেলার দৌলতপুর ভারত সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা ও ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে দিয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঢুকছে এসব মাদক। যা হাত বদল হয়ে নদী পথ ও সড়ক পথে তা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
এমন খবর নামপ্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন। ২০২০ সালের ২৩ জুলাই হার্ডিঞ্জ সেতুর পূর্ব পাশে কলাগাছে ঘেরা একটি জমিতে গাঁজা চাষ করা হয়েছিল। এমন খবরে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সেখানে লাগানো ৫৫টি গাঁজা গাছ কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়। নির্জন এলাকা হওয়ায় সেখানে বসেই
নতুন করে আবারও সেই সক্রিয় চক্র হার্ডিঞ্জ পয়েন্টে বহাল তবিয়তে জমজমাট মাদক ব্যবসা
চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে বসে নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রায় প্রতিদিনই মাদকসহ ধরা পড়ছে মাদক কারবারিরা। নতুন বছরের গত জানুয়ারি মাসেই মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ৮১টি অভিযান পরিচালনা করেছেন মাদকদ্রব্য  নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া। এর মধ্যে মামলা দায়ে করা হয়েছে ৩৩টি। নিয়মিত মামলা ১২টি এবং মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে ২১টি। এতে গেল এক মাসের চিত্র এটি। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাতে ধরা পড়েছে শতাধিক মাদক কারবারি। উদ্ধার করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ মাদকও।
তবে গ্রেফতারকৃরা বেশির ভাগই খুচরা কারবারি ও বাহক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতার পরও কুষ্টিয়া জেলার চিহ্ন মাদক ব্যবসায়ীদের লাগাম টানা যাচ্ছে। বহাল তবিয়তে চলছে তাদের জমজমাট মাদক ব্যবসা। জেলার
শীর্ষ মাদক কারবারিদের ধরতে খুব একটা তৎপরতার নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। চিহ্নিত স্পট ছাড়াও পাড়া-মহল্লায় এজেন্টদের মাধ্যমে নারী-পুরুষসহ শিশু-কিশোররাও বিক্রি করছে ভয়ংকর মাদক।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে,জেলার দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর ভারত সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা ও ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট দিয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঢুকছে এসব মাদক। যা হাত বদল হয়ে নদী পথ ও সড়ক পথে তা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেও থামানো যাচ্ছে না মাদকের বিস্তার।
কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পারভীন আখতার বলেন,
জেলার দৌলতপুর উপজেলার ভারত সীমান্ত এলাকাসহ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে মাদকের চালান আসছে। মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। কোথাও মাদক কেনাবেচা বা পাচারের খবর পেলেই সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে নিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। এতে মাদকসহ কারবারিরা আটকও হচ্ছেন। আমাদের অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
কুষ্টিয়ার সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি রফিকুল আলম টুকু বলেন,প্রতিদিনই মাদকসহ হাতেনাতে ধরা পড়ছে মাদক কারবারিরা। এরপরও থামানো যাচ্ছে না মাদকের বিস্তার। মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতারের পর কয়েক মাস জেল খেটে জামিনে বের হয়ে ফের মাদক ব্যবসায় জড়াচ্ছেন। মাদকের বিরুদ্ধে আইনের সাজা আরও কঠোর হওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খায়রুল আলম জানান,মাদকের বিরুদ্ধে নজরদারি রয়েছে।‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কাজ করছে। মাদক কারবারিদের ধরতে সাদা পোশাকেও পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.