আবুল হোসেন,রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আগামী ১০ মে উপজেলা বিএনপি’র সম্মেলন কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বৃহস্পতিবার ৫মে অনুষ্ঠিত দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে বিএনপির একাংশ (সাবেক এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম গ্রুপ) নেতা কর্মীরা প্রতিহত করার জন্য সম্মেলন স্থানে গিয়ে তারা বাধা দেয়। দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের তর্কে বিতর্কে সম্মেলন উত্তেজনা দেখা দেয়।

পুলিশ দাবী করেছে তাদের কে না জানিয়ে গোপনে তারা সম্মেলন করতে চেয়েছিলো। দুই গ্রুপের উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ তাদের কে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

৬ মে শুক্রবার উজানচর নবুওছিমদ্দিন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাঠ প্রঙ্গনে উজানচর ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে মো. সেলিম খান ছলিম কে সভাপতি, মো. শাহিন মৃধা সাধারণ সম্পাদক ও মো.ফরিদ উদ্দিন কে সাংগঠনিক সম্পাদক ঘোষনা করেন। এর আগে গত ৪ মে ছোটভাকলা ইউনিয়ন বিএনপি ও ৫ মে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সম্মেলনে করা হয়।

সম্মেলন কে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে বিএনপির উভয় গ্রুপের নেতাদের আশঙ্কা।
অপর অংশের দাবী( বর্তমান আহবায়ক কমিটি) তারা সাংগঠনিক নিয়ম মেনে শান্তি পূর্ণ ভাবে গঠনতন্ত্র মেনে সম্মেলন করছেন। ওয়ানইলেভেনে সময় সংস্কার পন্থিরা বিএনপিকে ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করেছিলো। তারাই পুনরায় বিএনপি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করছেন।

উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপিতে কোন্দল ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ২০২১ সালের নভেম্বরে রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাড. লিয়াকত আলী বাবু ও সদস্য সচিব এ্যাড. কামরুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গোয়ালন্দ পৌরসভার কাউন্সিলর মো. নিজাম উদ্দিন শেখ আহ্বায়ক ও মো. মোশাররফ হোসেন মুসা সদস্য কে সচিব করে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট গোয়ালন্দ উপজেলার বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তখন আহবায়ক কমিটিকে প্রত্যাখান করে গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন একাংশ ( খৈয়ম গ্রুপ)। এতে ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে অনুগতদের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন তারা।
উল্লেখ্য গোয়ালন্দে বিদ্যমান দুইটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে ২০০১ ওয়ার্কাস পাটি থেকে বিএনপিতে যোগদান কারী বামপন্থী নেতা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি যোগদান করেই বিএনপির মনোনয়নে রাজবাড়ী -১আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি ওয়ানইলেভেনের সময় দলের সংস্কার পন্থি নেতাদের মধ্যে অন্যতম সংগঠক ছিলেন। বর্তমান তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। জেলার বিএনপির দায়িত্বশিল কোনো পদে নেই এই নেতা। অপর অংশের নেতৃত্ব দেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এ্যাড আসলাম মিয়া। এই দুই নেতার পছন্দের মাইম্যান দিয়ে চলে গোয়ালন্দে বিএনপির রাজনীতি
গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লা বলেন, বির্তকিত আহবায়ক কমিটি দিয়েছে জেলা কমিটি। ত্যাগি নেতাদের বাদ দিয়ে কমিটি ঘোষনার কারনে আমারা আহবায়ক কমিটি প্রত্যাখান করেছি। আমরা তাদের সম্মেলন প্রতিহত করবো।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম বাবলু বলেন, আগামী ১০ মে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ও চলমান ইউনিয়ন কমিটি গঠন কে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনে আমি উপস্থিত থেকে দেখলাম নেতা কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। এবং গঠনতন্ত্র মোতাবেক কমিটি করা হচ্ছে না।

গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোশারফ হোসেন মুসা বলেন,সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষে কেন্দ্রের নির্দেশে, গঠনতন্ত্র মেনে ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন করা হচ্ছে। ওয়ানইলেভেনের ষড়যন্ত্রকারীরা পুনরায় বিএনপি ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করছেন।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, কমিটি গঠন করবে এমন কোনো তথ্য আমাকে জানানো হয়নি। বিএনপির সম্মেলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলার অবনতির সুযোগ দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি করার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.