নিজস্ব প্রতিনিধি॥ কুষ্টিয়ায় পৌর কাউন্সিলর কৃর্তৃক বিদ্যালয়ের জায়গা দখলে বাধা দেয়ায় প্রধান শিক্ষকের উপর হামলা, অফিস কক্ষ ভাংচুরের মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী কুষ্টিয়া পৌরসভার ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল রানা আশাসহ হামলায় জড়িত অপর তিন জনকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদলত।

রবিবার দুপুরে কুষ্টিয়া প্রধান বিচারিক আদালতের হাকিম শেখ তারিক এজাজ এর আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিনাবেদন করলে আদালত শুনানী শেষে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিবাদীপক্ষের কৌসুলি এ্যাড. মনোয়ার হোসেন মুকুল। তিনি জানান, এর আগে এই মামলায় এজাহার নামীয় আসামী সোহেল রানা আশা উচ্চ আদালত থেকে ৬সপ্তাহের এন্টিসিপেটরি বেল নিয়ে সেই সময় গতকাল শনিবার অতিক্রান্ত হওয়ায় আদালতের নির্দেশনা মতে রবিবার ওই মামলার সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেছিলাম। বিজ্ঞ আদলত শুনানী শেষে জামিন না মঞ্জুর করেন।

অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে মামলা করেও চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন হামলার শিকার ওই স্কুল শিক্ষক ও মামলার বাদি নজরুল ইসলাম। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও হামলায় জড়িত কাউন্সিলরসহ সংগীয় ক্যাডার বাহিনীর সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবিতে বিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষক শিক্ষার্থীরা কুষ্টিয়া রাজবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক একাধিকবার অবরোধ করে রাখে। তবুও আইন শৃংখলা বাহিনী প্রভাবশালী এই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেনি বলেও অভিযোগ তুলেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। এছাড়া কুষ্টিয়া সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের কথিত সমিতির নেতা হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে নানা ধরনের ভয়ঙ্কর অপরাধ সংগঠিত করেও নানা ফাকফোকর গলিয়ে রেহায় পেয়ে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরে। বিষয়টি সর্বজনজ্ঞাত হলেও কারও কিছু বলার নেই।

এঘটনার সংবাদ পেয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে শিক্ষকের উপর হামলা ও অফিসকক্ষ ভাংচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি সম্মত ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি করেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১মার্চ বেলা সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া পৌর এলাকাধীন ২১নং ওয়ার্ডস্থ লাহিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম তার নিজ কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় স্থানীয় পৌর কাউনিন্সলর মো: সোহেল রানা আশা কক্ষে প্রবেশ করে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই প্রধান শিক্ষককে বেদম প্রহার ও অফিসকক্ষ ভাংচুরসহ তছনচ করে যান। এতে গুরুতর আহত শিক্ষককে উদ্ধারে অন্যান্য শিক্ষকরা এগিয়ে গেলে তাদেরকেও ওই কাউন্সিলর বেধরক মারধর করে বলে অভিযোগ শিক্ষকদের।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, “দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় কাউন্সিলর সোহেল রানা আশা বিদ্যালয়ের মাঠে ইট বালু, খোয়া, পাথরসহ বিভিন্ন নির্মান সামগ্রী রেখে বাচ্চাদের এ্যাসেম্বøীর স্থানসহ খেলাধুলার জায়গা দখল করে রেখেছেন। এছাড়া আরও বিপদজনক পরিস্থিতি সৃস্টি করে স্কুলের প্রধান গেটের মুখে প্রায় দিনই ক্রাসার মেশিনে খোয় ভাঙ্গার বিকট শব্দে শিক্ষার্থীদের পাঠদানও ব্যহত হচ্ছে। করোনাকালের দুই বছর শ্রেনীকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকায় তেমন কোন সমস্যা না হলেও এখন যেহেতু সরাসরি পাঠদান কার্যক্রম চলছে; এই বিষয়টাই জানিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে কাউন্সিলর সোহেল রানাকে অনুরোধ করেন ওইসব নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নেয়ার জন্য। অন্যান্য দিনের মতো ঘটনার দিন সকালে বিদ্যালয়ের গেইটে আবার ক্রাসার মেশিন চালু করায় সেটি বন্ধ করতে বলেছি বলে কাউন্সিলর আশা তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে আমার উপর হামলা চালিয়েছেন। এবং অস্ত্র দেখিয়ে এসব বিষয় নিয়ে বেশী বাড়াবড়ি না করার জন্যও হুমকি দিয়ে যান। আমি এখন চরম ভীত সন্ত্রস্ত। আমি বিচার চাই”।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও কুষ্টিয়া পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে জ্যেষ্ঠ সাবেক প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমান মজনু বলেন, এমন ন্যাক্কার জনক ঘটনায় জড়িত ওই কাউন্সিলরকে গ্রেফতারের দাবিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি থাকলেও পুলিশ তা গুরুত্ব না দিলেও আজ আদালত সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.