নিজস্ব প্রতিবেদক : কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান বলেছেন. জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে তার সুযোগ্য কন্যা সাহসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মাসেতুসহ দেশের উন্নয়নে বড় বড় মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতিকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন- তা বর্তমান বিশ্বে রোল মডেল।

শনিবার বিেকলে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে জেলা আওয়ামীলীগের আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রসহ সকল অপশক্তি রুখে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

তিনি আরও বলেন, ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আওয়ামীলীগের সভাপিত বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মারা গেলে আজকের এই বাংলাদেশ আমরা পেতাম না।
বাংলাদেশ পাকিস্তানের প্রেতাত্মায় রুপ নিতো। এখনও দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে এবং কুচক্র মহল বিদেশে গিয়েও অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এসব সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি।

কুষ্টিয়ার উন্নয়নে এমপি মাহবুব উল আলম হানিফের অবদানের কথধা স্বীকার করে তিনি বলেন, এ জেলায় যত উন্নয়ণ হয়েছে তা কেবল আমাদের জননেতা মাহবুব উল আলম হানিফের হাত ধরেই হয়েছে। তাই তার হাতকে শক্তিশালী করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি।

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আজগর আলীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, সহ সভাপতি শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার ঘোষ, প্রোকৌশলী ফারুকুজ্জামান, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড, আ.স.ম আক্তারুজ্জামান মাসুম, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, সদস্য হাবিবুল হক পুলক, শ্রম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, দপ্তর সম্পাদক হাজী তরিকুল ইসলাম মানিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিজ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মীর শওকত আলী বকুল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড শীলা বসু, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জেবুন্নেছা সবুজ, সাধারন সম্পাদক এ্যাড. শামস তানিম মুক্তি, জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সেনাসমর্থিত ওয়ান-ইলেভেনের তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করার দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে পাঠানো হয়। দেশে এবং বিদেশে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ক্রমাগত চাপ, আপসহীন মনোভাব ও অনড় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেসময় সেনাসমর্থিত ওয়ান-ইলেভেনের সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। সেই বছর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক জনসমর্থনে সরকার গঠণের পর থেকে এবং পরবর্তী মেয়াদেও নির্বাচিত হয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত স্বপ্ন দারিদ্রমুক্ত সুখী সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের এই দিনে (১১ জুন) প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। সেনাসমর্থিত এক-এগারোর তত্ত্ববধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেপ্তার হন শেখ হাসিনা। গ্রেপ্তারের পর কারাগারের অভ্যন্তরে শেখ হাসিনা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন বিদেশে চিকিৎসার জন্য তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। একপর্যায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.