
হাসান আলী
কুষ্টিয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে করা হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পিবিআই। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পিবিআই এর পুলিশ সুপার শহীদ মো: সরোয়ার এবং মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামানসহ সংগীয় ফোর্স। এসময় ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেন বলে নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ‘কুষ্টিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ০৫ আগষ্ট ৮জন নিহতের ঘটনায় ১০ আগষ্ট হতে অদ্যবধি কুষ্টিয়া মডেল থানা ও আদালতে ডজনাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা অভিযোগে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পতিত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীসহ হাই প্রোফাইল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নাম এজাহার ভুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা ফেরিওয়ালা বাবলু হত্যার অভিযোগে নিহতের ছেলে বাদি হয়ে ১৯ আগষ্ট আদালতে করা মামলা নং ১১৫১/২০২৪র এজাহারে কুষ্টিয়া পুলিশের ৭ কর্মকতার নাম রয়েছে। যদিও কুষ্টিয়া মডেল থানায় পৃথক ভাবে নিহত ও আহতের ঘটনায় পরিবার এবং থানায় হামলা ভাংচুর অস্ত্রলুটসহ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের করা মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে করা এজাহার করা হয়েছে এদুটি মামলাতে।
পুলিশের গুলিতে নিহত ফেরিওয়ালা বাবলু হত্যাকান্ডের অভিযোগে আদালতে করা মামলার এজাহারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফসহ জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও ৭পুলিশ কর্মকর্তার নামসহ ১২৬জনের নামোল্লেক এবং অজ্ঞাত আরও ৩০/৪০জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটি কুষ্টিয়া অতিরিক্ত চীফ জুডিশিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রট আদালতের বিচারক মাহমুদা সুলতানা আমলে নিয়ে এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। এজাহার নামীয় ৭পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুল হক চৌধুরী, পুলিশ পরিদর্শক দীপেন্দ্রনাথ সিংহ, উপপুলিশ পরিদর্শক সাহেব আলী ও মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী উপপুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান ও উজ্জল হোসেন।
মামলার বাদি সুজনের অভিযোগ, ঘটনাস্থলের সুনির্দিষ্ট বিবরণসহ হুকুমদাতা সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাহবুবুল আলম হানিফসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, হত্যাকান্ডে জড়িত ৭ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১২৬ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৪০/৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে মডেল থানায় এজাহার দিলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক মাহমুদা সুলতানার আদালতে মামলাটি আমলে নেন।
এবিষয়ে জানতে পিবিআই কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার শহীদ মো: সারোয়ার এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, কুষ্টিয়া পিবিআইয়ের চৌকষ ও দক্ষ পুলিশ পরিদর্শক মনিরুজ্জামান তদন্ত শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে বেশকিছু প্রাসঙ্গিক আলামত ও ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছেন। আদালতের দেয়া সময়ের মধ্যেই পিবিআই একটা প্রতিবেদন দাখিল করতে সক্ষম হবেন। তারপর আদালতের যা আদেশ হয় সে মোতাবেক আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।