জলবায়ু অভিযোজনের নামে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে ফেলা চলবেনা মোংলায় মানববন্ধনে বক্তারা



রেজা মাসুদ, মোংলা

জলবায়ু অভিযোজনের নামে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে নতুন ঋণের ফাঁদে ফেলা চলবেনা। জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতি থেকে মুনাফা অর্জন করছে তথাকথিত উন্নত দেশ ও কর্পোরেশনগুলো। অথচ ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদীভাঙন ও ফসলহানির বোঝা বহন করছে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো। সবুজ ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর, পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায্যতা এবং জনগনের মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে।

১৬ অক্টোবর শুক্রবার সকালে মোংলার মিঠেখালি বাজারে আইএমএফ বিশ্বব্যাংক’র বার্ষিক সভাকে ঘিরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা একথা বলেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, উদয়ন যুব সংঘ ইউজেএস এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ১২—১৮ অক্টোবর ২০২৬ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ বিশ্বব্যাংক’র বার্ষিক সাধারণ সভাকে ঘিরে ’বিশ্ব অর্থনীতি কার স্বার্থে পরিচালিত হবে?” এই প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার সকাল ৯টায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রীয় নেতা পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ। মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা নাজমুল হক, ’ধরা’ নেতা মোল্লা আল মামুন, কৃষক নেতা আসাদুজ্জামান টিটো, উদয়ন যুব সংঘের এস এম জানে আলম বাবু, ইয়ুথ লিডার শেখ সিফাতুল্লাহ শুভ, আরাফাত দূর্জয়, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র মেহেদী হাসান প্রমূখ।

মানববন্ধনে শ্রমিক নেতা নাজমুল হক বলেন উন্নয়নশীল দেশগুলোকে একদিকে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। উচ্চ সুদ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি এই সংকট আরো গভীর করছে। তিনি বলেন ঋণ পরিশোধের স্বার্থে যদি মানুষের মৌলিক অধিকার সংকুচিত হয়, তবে সেই উন্নয়ন কার জন্যে? শ্রমিক নেতা নাজমুল হক আরো বলেন ঋণদাতাদের শর্তের চেয়ে জনগনের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রীয় নেতা পশুর রিভার ওয়াটারকিপার পরিবেশযোদ্ধা মোঃ নূর আলম শেখ বলেন মুনাফার পৃথিবী নয়, মানুষের পৃথিবী গড়তে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঋণ নয়, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জলবায়ূ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ¦ালানিতে অর্থায়ন হলো জলবায়ুতে অর্থায়ন। খাদ্যকে কর্পোরেট মুনাফার পন্য নয়, মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। পরিবেশবান্ধব কৃষি নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায্য সবুজ জ্বালানি রূপান্তর ঘটাতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখনই নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *